ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না—ইরানের এমন ঘোষণার পর এই ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়। এক প্রতিবেদনে আল জাজিরা বলছে, গ্রিনিচ মান সময় ১২টা ২৫ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ডভিত্তিক তেল চুক্তি ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ৪.০৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৬.৭৩ ডলারে পৌঁছায়।
কৌশলগত এই জলপথটি বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহনের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাই এই পথে যেকোনো সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে। লন্ডনের স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৪২ মিনিটে দেখা যায়, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৫৯ ডলার বা ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০০ দশমিক ০৭ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে।
অন্যদিকে, মার্কিন তেলের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ১ দশমিক ৫১ ডলার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯১ দশমিক ১৮ ডলারে। এর আগে মঙ্গলবারও তেলেরদাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছিল। তেহরান দীর্ঘ সময় ধরেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করে রেখেছে। মার্কিন ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের প্রতিবাদ এবং মার্কিন অবরোধের পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরান এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এদিকে ইউরোপেও জ্বালানি সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রুশ তেল সরবরাহের ড্রুজবা পাইপলাইন চালুর ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করলেও বাস্তবতা ভিন্ন।