খুলনা

যশোরের শার্শার উল্লাশী জিয়া খাল পুনঃখননে এখন প্রবাহমান

তারেক রহমানের হাতের ছোঁয়ায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত যশোরের শার্শার উল্লাশী জিয়া খাল। তারেক রহমান উল্লাশী জিয়া খাল পুনঃখননকাজের উদ্বোধন করার পর থেকেই শুরু হয় খাল খননের কাজ। একসময় খননকাজ সমাপ্ত হলে প্রাণ ফিরে পায় খালটি।

প্রায় দীর্ঘ অর্ধশত বছর পর পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নিজ হাতে কাটা উল্লাশী জিয়া খাল দ্বিতীয়বার পুনঃখনন করেন তারেক রহমান। দ্বিতীয় দফায় খাল খননের কারণে ভরা বর্ষা মৌসুমে শার্শা উপজেলার ২২টি খালে এবার জলাবদ্ধতা তৈরি হয়নি। ফলে সোনামুখী ও বনমান্দার বিলের কয়েক হাজার একর জমিতে কৃষকেরা আমন ধান রোপণ করতে পেরেছেন। খাল খননের ফলে চলতি বর্ষা মৌসুমে সোনামুখী, কামান্দারসহ শার্শা উপজেলার ২২টি ছোট-বড় বিলের পানি জিয়া খাল দিয়ে নিষ্কাশিত হচ্ছে। বর্ষায় পানিপ্রবাহ থাকায় সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় জেলেরা উল্লাশী জিয়া খালে মাছ ধরছেন। শুষ্ক মৌসুমে কৃষকেরা এই খালের পানি ফসলের খেতে সেচকাজে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছেন।

গত ২৭ এপ্রিল শার্শার উল্লাশীতে প্রায় ৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই খাল পুনঃখননকাজের উদ্বোধন করা হয়। এর আগে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে উল্লাশী খাল খনন করেছিলেন। প্রায় ৫০ বছর পর সেই খাল পুনঃখনন করলেন তাঁর ছেলে তারেক রহমান। খালের প্রাণ ফিরে পাওয়ায় এটি দেখতে এখন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসছেন।

জিয়া খাল পুনঃখননের আগে উল্লাশী খাল পরিদর্শনে এসে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছিলেন, উল্লাশী জিয়া খাল পুনঃখননের মাধ্যমে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের যশোরের উন্নয়নের চাকা নতুন করে সচল হবে। বিগত ১৭ বছরে যশোরসহ শার্শার উন্নয়নের চাকা থমকে গিয়েছিল, যা এখন ফের গতি পাবে।

উল্লাশী জিয়া খাল এলাকা সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, এখন খালের পানিতে স্রোত বইছে। শিশু-কিশোর ও যুবকেরা খালের পানিতে গোসল করছে, সাঁতার কাটছে এবং মাছ ধরছে।

স্থানীয়রা জানান, জিয়া খালের পাশেই বেতনা নদী নামে একটি নদী ছিল। সেই নদীর পানি এই খালে প্রবাহিত হতো। কিন্তু নদীটি এখনো বেদখল হয়ে আছে। নদী দখলমুক্ত করতে পারলে খাল খননের সুফল এলাকার মানুষ পুরোপুরি পাবে।

সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নে গত ২৭ এপ্রিল উল্লাশী জিয়া খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করা হয়।

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, দীর্ঘদিন উল্লাশী জিয়া খাল খনন না করায় খালের নাব্যতা হারিয়ে গিয়েছিল। খাল খননের ফলে এখন শার্শার সোনামুখী ও বনমান্দারসহ অনেক বিলে ভরা বর্ষা মৌসুমেও জলাবদ্ধতা নেই। ফলে এসব বিলে সাধারণ প্রান্তিক চাষিরা আমন ধান রোপণ করতে পারছেন। তিনি আরও জানান, শার্শায় চলতি মৌসুমে ২০ হাজার ৪৪৮ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, যার মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপণ করা হয়েছে।

 


সম্পর্কিত খবর