একই দিনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদ (বি ইউনিট) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) পুরান ঢাকার রাস্তাগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ যানজট। গুলিস্তান থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাসহ আশপাশের সড়কজুড়ে যানবাহনের ধীরগতি ও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে অনেক পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা শুরুর পরও কেন্দ্রে পৌঁছাতে দেখা গেছে।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে আসা পরীক্ষার্থী ফজলে রাব্বি জানান, যানজটে আটকে পড়ায় তিনি নির্ধারিত সময়ের ১৮ মিনিট পর কেন্দ্রে পৌঁছান। তবে বহুনির্বাচনি পরীক্ষার শেষ মুহূর্তে পৌঁছানোর কারণে তাকে আর পরীক্ষায় বসার অনুমতি দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, "বহুনির্বাচনি পরীক্ষায় পাস না করলে লিখিত পরীক্ষার কোনো মূল্য নেই। তাই বাধ্য হয়ে পরীক্ষা না দিয়েই চলে যাচ্ছি।"
সকাল থেকেই যানজটের কারণে অনেক শিক্ষার্থীকে কয়েক কিলোমিটার পথ হেঁটে পরীক্ষার হলে পৌঁছাতে হয়েছে। সদরঘাটগামী যানবাহনগুলো তাঁতীবাজার ও রায় সাহেব বাজার মোড় থেকে ঘুরিয়ে দেওয়া হলেও গুলিস্তান-পল্টন এলাকায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক বলেন, "আমরা লালবাগ ট্রাফিক জোনের ডিসি, এসিডিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছি। তবে এত বড় সংখ্যক পরীক্ষার্থী এবং যানবাহনের চাপের কারণে কিছুটা যানজট তৈরি হয়েছে।"
পুরান ঢাকার ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর সাঈদুর রহমান বলেন, "সকাল সাতটা থেকে আমরা ৭ জন ইন্সপেক্টর এবং ৫২ জন পুলিশ সদস্য নিয়ে যানজট নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছি। শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছি, তবে অতিরিক্ত যানবাহন এবং পথচারীর কারণে সমস্যা পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব হয়নি।"
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ভর্তি পরীক্ষা তিনটি কেন্দ্রে (সোহরাওয়ার্দী কলেজ, সরকারি কবি নজরুল ইসলাম কলেজ ও মহানগর মহিলা কলেজ) অনুষ্ঠিত হওয়ায় যানজট আরও প্রকট হয়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বি-ইউনিটের পরীক্ষা তিনটি শিফটে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা, দুপুর ১টা থেকে ২টা এবং বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বি-ইউনিটে মোট ৪২ হাজার ৯৭৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে, যেখানে আসন সংখ্যা মাত্র ৭৮৫টি। অর্থাৎ প্রতি আসনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ৫৫ জন শিক্ষার্থী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. শেখ গিয়াসউদ্দিন জানান, "অনেক শিক্ষার্থীর জিপিএ নম্বর একই হওয়ায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সংখ্যা ৪০ হাজারের বেশি হয়েছে।"
বি-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় বহুনির্বাচনি অংশের জন্য ২৪ নম্বর, লিখিত পরীক্ষার জন্য ৪৮ নম্বর নির্ধারিত ছিল। এ ছাড়া এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে যথাক্রমে ১২ ও ১৬ নম্বর যুক্ত করা হবে।
ভর্তির ক্ষেত্রে মানবিক বিভাগের জন্য ৫০৫টি, বিজ্ঞান বিভাগের জন্য ১৩০টি এবং বাণিজ্য বিভাগের জন্য ৭৫টি আসন বরাদ্দ রয়েছে। সংগীত ও নাট্যকলা বিভাগে ৭৫টি আসন সংরক্ষিত, যেখানে সব বিভাগের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারেন।
এই বিভাগে ভর্তিচ্ছুদের বহুনির্বাচনি ও লিখিত পরীক্ষার ভিত্তিতে মেধাতালিকা তৈরি করা হবে এবং তাদের ৫০ নম্বরের ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হতে হলে ব্যবহারিক পরীক্ষায় কমপক্ষে ২০ নম্বর পেতে হবে।
একই দিনে দুটি বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা হওয়ায় পুরান ঢাকার যানজট পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা যানজট এড়াতে পূর্ব পরিকল্পনা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। প্রশাসনও ভবিষ্যতে এ ধরনের সমস্যা এড়াতে পরীক্ষা আয়োজনের ক্ষেত্রে সময় ও স্থান নির্ধারণের ব্যাপারে আরও সচেতন হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে।
বায়ান্ন/এএস/পিএইচ