বিনোদন

যেটা ভাগ্যে আছে সেটা পাই

গত মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে এই পর্যন্ত পাঁচটা শো বাতিল হয়েছে। অগ্রিম পারিশ্রমিক নিয়ে আবার ফেরতও দিতে হয়েছে। ভাবুন, শো চূড়ান্ত হওয়া মানে আপনি নিশ্চিত ওখান থেকে একটা অঙ্কের টাকা আসবে। কিন্তু সেটা বাতিল হলে?

 

 

 

অবশেষে এলো ‘তুমিহীনা’...

 

নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে গানটা প্রকাশ করতে চেয়েছিলাম।

 

 

কিন্তু হঠাৎ ভূমিকম্পে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হয়। দেখেছেন তো! পুরো দুই সপ্তাহ ঢাকাসহ সারা দেশের মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত ছিল। ওই সময়ে গান প্রকাশ করাটা ঠিক হবে না বলে মনে হয়েছিল। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক।

 

তাই গানটা প্রকাশ করলাম।

 

 

আপনার সহকর্মী অনেকেই গানটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করছেন...

 

বিশ্বাস করেন, এটা অপ্রত্যাশিত ছিল। এমনিতে শোবিজে তো একে অন্যের পিছে লেগে থাকে। তবে আমার বেলায় বিষয়টা উল্টো হলো।

 

 

অনেকেই গানটা নিজেদের টাইমলাইনে শেয়ার করছেন। সুন্দর সুন্দর মন্তব্য করছেন। আমি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ।

 

 

সাধারণ শ্রোতারা গানটি কতটা পছন্দ করছেন?

 

এই গানটা কিন্তু আর দশটা বাংলা গানের মতো নয়। বাংলা গানের সুরে যে মেলোডিয়াস একটা ব্যাপার থাকে, এই গানে তেমনটা নেই।

 

 

মিউজিকেও কিছুটা অ্যারাবিয়ান আর ওয়েস্টার্নের মিলন ঘটিয়েছি। বেসিক বললে, পপ ঘরানার গান এটি। সবাই যে গানটা পছন্দ করবে—এ রকম আশা করি না। তবে যারা গান বোঝে তারা আমার চেষ্টাটা অনুধাবন করতে পারবে।

 

 

এখন তো শিল্পীরা সহজ গান খোঁজেন। আপনি ঝুঁকি নিতে গেলেন কেন?

 

প্রথম থেকেই আমি নিজের ভালো লাগাকে প্রাধাণ্য দিই। প্রথম অ্যালবাম ‘নদী’ শুনলে বুঝতে পারবেন আমার টেস্ট। এখন পর্যন্ত সস্তা কথার কোনো গানে আমাকে খুঁজে পাবেন না। বরাবরই চেয়েছি আমার একটা আলাদা সিগনেচার তৈরি হোক। সেই চাওয়া থেকে এই ধরনের গান করা।

 

 

 

লেখার পাশাপাশি সুরও করছেন। দুটোই কী নিয়মিত করবেন?

 

হ্যাঁ। স্টুডিওতে যখন গিটার বা হারমোনিয়াম ধরি এমনিতে একটা সুর চলে আসে। সেই সুরের ওপর যে কথাগুলো ভালো লাগে সেগুলো বসাই। আমার লেখা ও সুরে আট-দশটি গান তৈরি হয়ে আছে। সেগুলো একে একে আমার ইউটিউব চ্যানেল চলে আসবে। সবগুলো গানই আলাদা ধাঁচের।

 

 

 

কনসার্ট কেমন চলছে?

 

এখন [গতকাল বিকেলে] যাচ্ছি ঢাকার আলোকিতে। আমার একক কনসার্ট। এর মধ্যে চট্টগ্রামে দুবার, সিলেটে, রাজশাহী ও ঢাকাতে আরো কয়েকটি কনসার্ট করলাম। ১৬  ও ৩১ ডিসেম্বর আগেই বুক হয়ে আছে। আশা করছি, এর বাইরে আরো কয়েকটি কনসার্ট যুক্ত হবে।

 

 

 

অনেক শিল্পীই আবার অভিযোগ করছেন, আগের তুলনায় কনসার্ট কম। এটা কী সত্যি?

 

শিল্পীরা ৯ মাস অপেক্ষায় থাকে নভেম্বর, ডিসেম্বর আর জানুয়ারির জন্য। কারণ এই তিম মাস কনসার্টের সিজন। অনেকের মাসে পঁচিশ-ছাব্বিশটা করে শো থাকে। তবে সত্যি এটাই, তাঁদের সেই সংখ্যাটা কমে হয়তো সাত-আটটায় চলে এসেছে। আমার কথা যদি বলি, গত মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে এই পর্যন্ত পাঁচটা শো বাতিল হয়েছে। অগ্রিম পারিশ্রমিক নিয়ে আবার ফেরতও দিতে হয়েছে। ভাবুন, শো চূড়ান্ত হওয়া মানে আপনি নিশ্চিত ওখান থেকে আপনার একটা অঙ্কের টাকা আসবে। সেই টাকা কোন খাতে লাগাবেন সেটাও হিসেব করে রেখেছেন। শেষ সময়ে এসে শোটা বাতিল হলে কেমন লাগে! এবার জানুয়ারিতে শো হবে কি না সেটা নিয়েও চিন্তিত আছি। ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে পুরো জানুয়ারিজুড়েই থাকবে প্রচার-প্রচারণা। তখন কনসার্ট হবে কিভাবে? কণ্ঠশিল্পীদের জন্য সময়টা আসলেই কঠিন।

 

 

 

চলচ্চিত্রে ‘সুতো কাটা ঘুড়ি’র মতো জনপ্রিয় গান থাকতেও আর আপনাকে প্লেব্যাকে পাওয়া গেল না...

 

বলার কিছু নেই। আমি কোনো সময় কারো কাছ থেকে কিছু চেয়ে নিতে পারি না। যেটা ভাগ্যে আছে সেটা পাই। ভবিষ্যতে যদি কেউ মনে করেন গানটির জন্য নদীকে লাগবে তাহলে আমিও সাড়া দেব। তাই বলে কাউকে অনুরোধ করতে পারব না, আমাকে একটা গান দেন।

 



সম্পর্কিত খবর