মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় দেশে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন নির্ধারিত দামে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকা করা হয়েছে।
এর আগে ৩১ আগস্টে সেপ্টেম্বর মাসের জন্য প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৪০ টাকা দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল। দাম বৃদ্ধির কারণ প্রসঙ্গে জ্বালানি বিভাগ বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে গত মার্চ মাস থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের মূল্য এবং ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি পেলেও জনস্বার্থে সরকার সে হারে দেশে মূল্য বৃদ্ধি করেনি।
গত মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিপিসির প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে বলেও জানায় জ্বালানি বিভাগ। জ্বালানি বিভাগ আরো জানিয়েছে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারের দরের তুলনায় দেশে জ্বালানি তেলের দাম কম থাকায় প্রতিবেশী দেশগুলোতে পাচারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় জ্বালানি তেল পাচার রোধ, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং বিপিসির লোকসান কমাতে দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারের দরে ডিজেল বিক্রি করলে বিপিসির প্রতি লিটারে প্রায় ৮৯ টাকা লোকসান হচ্ছে। এতে দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকা এবং বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে।
লিটারপ্রতি ২০ টাকা দাম বাড়ানো হলে বছরে বিপিসির লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। এদিকে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পেছনে বিপিসির আর্থিক চাপও বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি বিপিসি জানিয়েছে, মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত জ্বালানি তেল আমদানিতে সংস্থাটির লোকসান হয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে এলএনজি আমদানিতেও ব্যয় বেড়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে সরকারকে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এসব পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের মাধ্যমে বিপিসির লোকসান কমানোর পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমানো এবং পাচারের ঝুঁকি ঠেকানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।