রাউজান উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের জানিপাথরে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে পারিবারিকভাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে খাবার খেয়ে চাঁদা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একদল যুবকের বিরুদ্ধে। ২ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে আয়োজকদের ওপর হামলা, শ্লীলতাহানি এবং স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগে জানা গেছে।
রবিবার (৩০ আগস্ট) বিকেলে জানিপাথরের পাঁচপুকুরিয়া এলাকায় আয়োজকের বসতঘরের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এতে চার নারী আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন—মফিজুর রহমানের স্ত্রী সাদিয়া আকতার (২৫), বোন মরিয়ম বেগম (২০), ফুফাতো বোন মনি আকতার (২৬) এবং চাচাতো বোন মাহি আকতার (১৯)।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মোহাম্মদ মফিজুর রহমান বাদী হয়ে রাউজান থানায় ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২০-২২ জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগসূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মফিজুর রহমান নিজ বাড়িতে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে মাহফিল ও কয়েকশত মানুষের খাওয়ার আয়োজন করেন। এতে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে পার্শ্ববর্তী এলাকার মো. রুবেল (২৭), বুরু ছালাম (৩৫), মো. ইকবাল (৪০), চালিয়ে (২৫) ও মো. ফারুকসহ (৩০) অচেনা ২০-২২ জন অংশ নেন। খাওয়া-দাওয়া শেষে বিকেল ৩টার দিকে অভিযুক্ত রুবেল ও তার সঙ্গীরা আয়োজক মফিজুর রহমানের কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রুবেল তাকে গালিগালাজ করে এবং মারতে উদ্যত হয়। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে তারা কেটে পড়ে।
পরবর্তী সময়ে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে অভিযুক্ত রুবেল তার মুঠোফোন (০১৮২৬০৯৫২৮৫) থেকে কল দিয়ে পুনরায় চাঁদা দাবি করে এবং হুমকি দেয়। এর কিছু সময় পর বিবাদীরা দলবল নিয়ে পুনরায় মফিজুর রহমানের বাড়ির সামনে অবস্থান নেয়। এ সময় তাঁর পরিবার-পরিজন সিএনজি অটোরিকশাযোগে স্থায়ী ঠিকানা (অক্সিজেন, বায়েজিদ) ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা হলে অভিযুক্তরা গতিপথ রোধ করে চাঁদা দাবি করে।
একপর্যায়ে অভিযুক্ত রুবেল মফিজুরের চাচাতো বোন মাহি আকতারের (১৯) পোশাক টেনে শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায় এবং গাছের ডাল দিয়ে আঘাত করে। এতে তাঁর কপাল ফেটে রক্তক্ষরণ হয়। অন্যান্য বিবাদীরা মফিজুরের বোন মরিয়ম বেগমকে (২০) কাঠের বাটাম দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটালে তাঁর বাম হাতের কনুইয়ের হাড় ভেঙে যায়। এ ছাড়া হামলাকারীরা ভুক্তভোগী নারীদের কান ও হাতের মোট ১ ভরি ৪ আনা ওজনের স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে তাঁরা রাউজান থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
এদিকে অভিযুক্ত মো. রুবেল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি দুপুরে তাদের বাসায় দাওয়াত খেয়েছি সত্য, এরপর কী হয়েছে তা জানি না। আমি ঘটনাস্থলেও ছিলাম না; ঘুমে ছিলাম, একটু আগে উঠলাম। অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। ফোনে কেউ চাঁদা চেয়েছেন বলে বাজারে শুনেছিলাম, তবে আমার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা।’
এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’