পঞ্চগড় সদর উপজেলার সাতমেরা ইউনিয়নের খাসমহল এলাকায় ইসলামুল হক নামে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে রাতের আঁধারে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাতে পঞ্চগড় সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ওই ব্যবসায়ী।
অভিযোগে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর দাবি, পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে তিনি বাড়িতে না থাকার সুযোগে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে জানালা দিয়ে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগ করে পালিয়ে যান তাঁর সাবেক ব্যবসায়ী অংশীদার রেজাউল করিম। রেজাউল একই এলাকার বাসিন্দা। ঘরের বাসিন্দারা তাৎক্ষণিক টের পাওয়ায় প্রাণরক্ষা হলেও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রসহ কিছু মালামাল আগুনে পুড়ে যায়। ভুক্তভোগীদের চিৎকারে বাড়ির অন্য সদস্য ও প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাঁদের উদ্ধার করেন এবং আগুন নেভাতে সক্ষম হন। সকালে বাড়ি ফিরে এই দৃশ্য দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েন ওই ব্যবসায়ী।
এদিকে খবর পেয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
ভুক্তভোগী ইসলামুল হক বলেন, “আর একটু হলে আমার স্ত্রী ও মেয়েসহ পরিবারের সবাই আগুনে পুড়ে মারা যেত। রেজাউল ও তার সহযোগীকে এখান থেকে পালিয়ে যেতে দেখেছেন অনেকে। আমি তার কাছে ব্যবসার ১১ লাখ টাকা পাব। লোকসান দেখিয়ে সেই টাকা দিচ্ছে না রেজাউল। পাওনা টাকার জন্য চাপ দেওয়ায় সে আমাকে হুমকি-ধামকি দিত। আমাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
সাতমেরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম বলেন, “এটি অত্যন্ত জঘন্য কাজ। অল্পের জন্য পরিবারটি বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে। যারা এই কাজ করেছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রেজাউল করিম। তিনি বলেন, “ইসলামুল আমার কাছ থেকে জমির বায়না বাবদ ১০ লাখ টাকা নেন। পরে আমাকে জমি না দিয়ে অন্য একজনের কাছে বিক্রি করে দেন। আমি টাকা ফেরত চাওয়ায় সে অগ্নিকাণ্ডের এই নাটক সাজিয়েছে। উল্টো তার কাছেই বহু মানুষ টাকা পায়।”
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান বলেন, “এ বিষয়ে লিখিত একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”