অর্থনীতি ও বাণিজ্য

নতুন সরকারের প্রথম একনেকে অনুমোদন পেল ৬ প্রকল্প

নতুন সরকার গঠনের পর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় আলোচ্যসূচিতে থাকা ১৯টি প্রকল্পের মধ্যে ৮টি নিয়ে আলোচনার পর ৬টি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

 

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন জানান, এদিনের বৈঠকে মোট ১৯টি প্রকল্প উপস্থাপনের কথা ছিল। তবে সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে ৮টি প্রকল্প নিয়ে আলোচনার পর সভাটি স্থগিত করা হয়। এই ৮টির মধ্যে ৬টি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে এবং ২টিকে পরবর্তী পর্যালোচনার জন্য রাখা হয়েছে। আলোচ্যসূচির বাকি প্রকল্পগুলো নিয়ে আগামী সপ্তাহের বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

 

দীর্ঘদিন ধরে শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক সভা হওয়ার রেওয়াজ থাকলেও, এবার তা ভেঙে সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। ভেন্যু পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো না হলেও কর্মকর্তাদের ধারণা, প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান কর্মব্যস্ততা ও সচিবালয়কেন্দ্রিক কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

উল্লেখ্য, একনেক বৈঠক উপলক্ষে পরিকল্পনা কমিশন চত্বরে ব্যাপক প্রস্তুতি ও সাজসজ্জার কাজ করা হয়েছিল। রাস্তা সংস্কার ও নতুন গাছ লাগিয়ে এলাকাটি গোছানো হলেও শেষ মুহূর্তে বৈঠকের স্থান পরিবর্তন করা হয়।

 

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সভাপতি করে নতুন একনেক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির বিকল্প সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সরকার গঠনের পর এটিই ছিল উন্নয়ন প্রকল্প নির্ধারণ ও ব্যয় পর্যালোচনার লক্ষ্যে গঠিত এই শীর্ষ কমিটির প্রথম আনুষ্ঠানিক সভা।

 

এছাড়া সাভার সেনানিবাসে আধুনিক ব্যারাক নির্মাণ, দেশের ৮টি বিভাগে উন্নতমানের ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপন এবং গোপালগঞ্জ ডেন্টাল কলেজ নির্মাণ প্রকল্পগুলো অনুমোদনের জন্য তোলা হয়েছে। নতুন সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনায় জনস্বাস্থ্য এবং নগরায়ণকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এই প্রকল্পগুলো সাজানো হয়েছে বলে পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে। প্রান্তিক মানুষের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়াই এই সভার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

 

 

সরকারের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে কম গুরুত্বপূর্ণ নতুন প্রকল্পের চেয়ে চলমান প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। 

 

সরকারি অর্থের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করাকে বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সভায় স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন যে, প্রকল্পের সুফল যেন সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছায় এবং কোনোভাবেই যেন অর্থের অপচয় না হয়। সরকারের এই কঠোর অবস্থানের ফলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

পরিকল্পনা কমিশন ইতিমধ্যে জানিয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো প্রকল্পের কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। প্রকল্পের গুণগত মান ও সময়সীমা বজায় রাখতে একটি কঠোর মনিটরিং বা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি যাচাই করা হবে যাতে কোনো কাজ ঝুলে না থাকে। 

 

সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভাটি নতুন সরকারের অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সভা শেষে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর বিস্তারিত বিবরণ আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।

 



সম্পর্কিত খবর