ঢাকা

স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাঠজুড়ে গরুর হাট, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীরা

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের মাঠজুড়ে সপ্তাহে দুই দিন বসছে গরু-ছাগলের হাট। দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাঠে পশুর হাট বসায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম। পশুর মলমূত্র ও বর্জ্যে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে দুর্গন্ধ। এতে রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে মুছাপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, পুরো মাঠজুড়ে বসেছে গরু-ছাগলের হাট। গরু-ছাগলের পাশাপাশি সেখানে ভিড় করছেন ক্রেতা-বিক্রেতা। এমনকি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবনের জানালার গ্রিলেও বাঁধা রয়েছে গরু। মাঠের এক পাশে বসে হাটের ইজারার টাকা তুলছেন ইজারাদারের লোকজন।

পশুর মলমূত্র ও বর্জ্যে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আশপাশের পরিবেশ হয়ে উঠেছে অস্বাস্থ্যকর। দুর্গন্ধে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অবস্থান করা রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ভোগান্তি বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয়রা জানান, ইউপি ভবন ও তালুকান্দি শুক্কুর বাজারসংলগ্ন এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একসময় ইউনিয়নের মানুষ নিয়মিত চিকিৎসাসেবা পেতেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে প্রতি শুক্র ও সোমবার স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাঠে গরু-ছাগলের হাট বসাচ্ছেন বাজারের ইজারাদার। এতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অস্থায়ী ভিজিটর মেহেনিকা বলেন, হাসপাতালের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে পশুর হাট ও পোলট্রি খামার থাকায় দুর্গন্ধে সেখানে বসে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিদ্যুৎ নেই এবং ভবনটিও জরাজীর্ণ। তিনি ও একজন আয়া সেখানে অবস্থান করেন।

তিনি আরও বলেন, সীমানাপ্রাচীর না থাকায় তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। দুর্গন্ধের কারণে অনেক রোগী আরও অসুস্থ বোধ করেন। তিনিও প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে জানান।

হাটের ইজারাদার ফারুকের সহকারী কবির বলেন, ‘শুক্রবার ছুটির দিন এখানে হাট বসে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বাউন্ডারি (সীমানাপ্রাচীর) নেই বলে বসি। বাউন্ডারি হলে এমনিতেই সরে যাব।’

এ বিষয়ে রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, ‘ইজারা দেওয়া জায়গার বাইরে যদি হাট বসানো হয়, সে ক্ষেত্রে ইজারাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জিনুকা আক্তার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মুছাপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের মাঠজুড়ে সপ্তাহে দুই দিন পশুর হাট বসায় সেবা কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। হাটটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয়দের দাবি, মানুষের চিকিৎসাসেবার জন্য প্রতিষ্ঠিত একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাঠে পশুর হাট বন্ধ করে দ্রুত স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ, বিদ্যুৎ-সংযোগ ও জরাজীর্ণ ভবন সংস্কারেরও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

 


সম্পর্কিত খবর