জাতীয়

হাইকোর্টের রায়ের কারণ ও নির্দেশনার পর আপিলের সিদ্ধান্ত

ছবি: সংগৃহীত

একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় হাইকোর্টের রায়ের কারণ বিশ্লেষণ এবং নির্দেশনা পর্যালোচনা শেষে আপিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। আপিল করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

রোববার (১ ডিসেম্বর) সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

একই দিন, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ সব আসামিকে খালাস দিয়ে বিচারিক আদালতের রায় বাতিল করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী শান্তি সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। শেখ হাসিনা তখন অস্থায়ী ট্রাকমঞ্চে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন। বক্তৃতা শেষ হওয়ার পরপরই একের পর এক গ্রেনেড বিস্ফোরণে রক্তাক্ত হয়ে যায় পুরো এলাকা।

এই নৃশংস ঘটনায় প্রাণ হারান আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন। আহত হন শেখ হাসিনাসহ পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। আহতদের মধ্যে সাংবাদিকেরাও ছিলেন।

হামলার পরদিন মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি মামলা করেন। প্রথমে তদন্তের দায়িত্বে ছিল পুলিশ। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল জলিল ও সাবের হোসেন চৌধুরী আরও দুটি মামলা দায়ের করেন।

তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার তদন্তকে ভিন্ন খাতে পরিচালনা করে, এমন অভিযোগ ওঠে। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মামলাগুলোর পুনঃতদন্ত শুরু হয়।

২০০৮ সালে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ২২ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেয়। এতে বলা হয়, শেখ হাসিনাকে হত্যা করে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছিল।

পরে আওয়ামী লীগ সরকার অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে ২০১১ সালে তারেক রহমানসহ ৩০ জনকে আসামি করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয়।

বিচারিক আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়া আসামিদের খালাস দিয়ে হাইকোর্টের এই রায় অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষ থেকে এই রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আপিলের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, আপিল করার আগে হাইকোর্টের রায়ের লিখিত কারণ এবং নির্দেশনা পর্যালোচনা করা হবে। ‘আমাদের আইনের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে আপিল করাটাই যথার্থ মনে করি’, বলেন তিনি।

একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক গভীর ক্ষত। এই হামলা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রকৃত উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়।

আদালতের রায় এবং এর প্রভাব নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তুঙ্গে। বিশেষত হাইকোর্টের রায় কীভাবে বিচারিক আদালতের রায়কে খারিজ করল, সেটি নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষ আপিলের জন্য প্রক্রিয়া শুরু করলেও এ রায় নিয়ে দেশের সাধারণ মানুষ, বিশেষজ্ঞ, এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। আপিলের মাধ্যমে মামলার পরিণতি কোনদিকে যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

বায়ান্ন/এমএমএল/একে



সম্পর্কিত খবর