দুই মৌসুমি ঝড় ‘প্রিসিলা’ ও ‘রেমন্ড’-এর আঘাত এবং এর জেরে সৃষ্ট প্রবল বর্ষণ, বন্যা ও ভূমিধসে মেক্সিকোতে মৃতের সংখ্যা আরও বেড়েছে। সর্বশেষ তথ্যানুসারে, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহত ও নিখোঁজের সংখ্যা এখন ১২৯ জনে পৌঁছেছে। এদের মধ্যে ৬৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এখনও ৬৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
গতকাল সোমবার (১৪ অক্টোবর) দেশটির প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই মর্মান্তিক তথ্য জানানো হয়েছে।
গত সপ্তাহজুড়ে টানা প্রবল বর্ষণের ফলে মেক্সিকোর নদী-হ্রদ এবং অন্যান্য জলাশয়ের পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় পাঁচটি প্রদেশে ব্যাপক বন্যা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, অনেক অঞ্চলে ভূমিধসের ঘটনাও ঘটেছে, যার শিকার হয়েছেন নিহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিরা।
মেক্সিকোর ৫টি ক্ষতিগ্রস্ত প্রদেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে হিদালগো এবং ভেরাক্রুজ প্রদেশে।
ভেরাক্রুজ: এই রাজ্যে ২৯ জনের মৃত্যু এবং এখনও ১৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
হিদালগো: এখানে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৪৩ জন নিখোঁজ আছেন।
ঝড়-বৃষ্টি-বন্যা-ভূমিধসে এই ৫টি প্রদেশের প্রায় ১ লাখ বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে দেওয়া বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতীয় নাগরিক সুরক্ষা সমন্বয়কের দেওয়া তথ্যানুসারে, ভেরাক্রুজ এবং হিদালগো ছাড়াও পুয়েবলা, কুয়েরেতারো এবং সান লুইস পোতোসি রাজ্যগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাম গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানিয়েছেন, মরদেহ ও নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদানের ব্যাপারে তিনি শিগগিরই মন্ত্রিসভার সঙ্গে জরুরি বৈঠক করবেন।
কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, উদ্ধার তৎপরতায় নৌকা, বিমান ও হেলিকপ্টারসহ প্রায় ১০ হাজার সেনা সদস্য অংশ নিচ্ছেন এবং তারা বন্যায় আটকে পড়া মানুষদের কাছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে দিচ্ছেন। তবে, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ জটিল হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ এই পরিস্থিতিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ বন্যা হিসেবে দেখছে।
বর্তমানে দুর্যোগ কবলিত এলাকায় স্থির পানিতে মশা-বাহিত রোগ, যেমন ডেঙ্গুর বিস্তার রোধেও কাজ শুরু হয়েছে।