খুলনা

অজ্ঞাতপরিচয় ২৫০-৩০০ জনকে আসামি করে গণপিটুনিতে মৃত্যু ও গরু চুরির ঘটনায় কালীগঞ্জ থানায় পৃথক দুই মামলা

গরু চোর সন্দেহে গ্রামবাসীর গণপিটুনিতে নিহত হাবিব হোসেনের পরিবার এখনো কোনো মামলা না করলেও ওই ঘটনায় ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গত শুক্রবার রাতে গণপিটুনিতে গুরুতর আহত সুমন হোসেনের বড় ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন বাদী হয়ে ২৫০-৩০০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অন্যদিকে গরু চুরির অভিযোগে বাদুরগাছা গ্রামের ওবায়দুল হকের স্ত্রী নিলুফা ইয়াসমিন একটি মামলা দায়ের করেছেন। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার বারোবাজার এলাকায় গরু চুরি সন্দেহে গণপিটুনিতে হাবিবের মৃত্যু ও সুমন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। নিহত হাবিব ও আহত সুমন যশোরের অ্যারাবপুর গ্রামের মৃত আইয়ুব হোসেনের ছেলে।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন জানান, গত শুক্রবার রাতে উপজেলার বারোবাজার এলাকায় গ্রামবাসী গরু চুরি সন্দেহে দুই ব্যক্তিকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই যশোর সদরের অ্যারাবপুরের হাবিব মারা যান এবং অপরজন আহত হন। এ ঘটনায় আহত সুমনের বড় ভাই বাদী হয়ে থানায় একটি এজাহার দিয়েছেন। পাশাপাশি চুরি হওয়া গরুর মালিকও একটি এজাহার দিয়েছেন। তবে ওই ঘটনায় নিহতের পরিবার এখনো কোনো অভিযোগ না দিলেও তারা থানার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। তিনি জানান, কাউকে পিটিয়ে হত্যা করা আইনসম্মত নয়। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রতিটি অপরাধের বিচার হওয়ার বিধান রয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গতঃ ওই দিন রাতে বারোবাজার ইউনিয়নের বাদুরগাছা গ্রামের ওবায়দুল হকের স্ত্রী নিলুফা ইয়াসমিনের বাড়ি থেকে একটি গরু চুরি হয়। স্থানীয়রা চুরির বিষয়টি জানতে পেরে চোরদের সন্ধানে বের হয় এবং রাত ৩টার দিকে পিরোজপুর বটতলা এলাকা থেকে দুজনকে পাকড়াও করে। পরে তাদের বাদুরগাছা গ্রামে নিয়ে গেলে উত্তেজিত জনতা গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই হাবিব হোসেন মারা যান এবং অপরজন গুরুতর আহত হন।

 


সম্পর্কিত খবর