জাতীয়

অবৈধ জোত পারমিট বাণিজ্যে কোটি টাকার মালিক বন কর্মকর্তা মতিউর

পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন বন রেঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছেন মোঃ মতিউর রহমান নামে এক ফরেস্টার। একসময় সার্ভেয়ার পদে কর্মরত থাকলেও বর্তমানে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের নারাইছড়ি রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সরকারি নথি অনুযায়ী, মতিউর রহমানের গ্রামের বাড়ি জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলায় হলেও তার পরিবার ২০২১ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম শহরের অভিজাত এলাকায় বসবাস করতেন। বর্তমানে তিনি ঢাকার উত্তরায় একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বসবাস করছেন।

জানা গেছে, রাঙামাটি অঞ্চলে অশ্রেণীভুক্ত বনাঞ্চল ও বনীকরণ বিভাগের সদর রেঞ্জে রেঞ্জ সহকারী হিসেবে তার প্রথম কর্মস্থল ছিল। এরপর এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সহযোগিতায় তিনি বীজ ও বীজতলা কেন্দ্র রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পান। সেখান থেকেই তার প্রভাবশালী উত্থান শুরু হয়।

পরে তিনি ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগের মেরুন রেঞ্জে এবং তারও পরে ফুলগাজী রেঞ্জে দায়িত্ব পালন করেন। এসব রেঞ্জে দায়িত্বে থাকার সময় তিনি অবৈধভাবে জোত পারমিট ইস্যু করে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব পারমিটের আওতায় যেসব ভূমি দেখানো হয়েছে, সেখানে প্রকৃতপক্ষে কোনো গাছ নেই এবং ভূমির সীমানাও মিল নেই।

তদন্তসুত্রে জানা গেছে, দায়িত্ব পালনকালে সংশ্লিষ্ট রেঞ্জগুলোর প্রত্যেকটিতেই জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি বনভূমি বরাদ্দ দেখিয়ে ব্যক্তিগত লাভবান হয়েছেন তিনি। এসব অবৈধ অর্থ দিয়েই ঢাকায় শুরু করেন ডেভেলপার ব্যবসা। বর্তমানে তার ও তার স্ত্রীর নামে রাজধানীতে চারটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় বনবিভাগের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এই অনিয়ম তদন্ত করলে বিশাল দুর্নীতির চিত্র উন্মোচিত হবে।

এই বিষয়ে জানতে মতিউর রহমানকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, “এসব অভিযোগ মিথ্যা। কোনো সহকর্মী সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দিয়েছেন।”

 



সম্পর্কিত খবর