পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সমতল আদিবাসী জাতিসমূহের প্রধান সামাজিক উৎসব চাংক্রান, সাংগ্রাই, সাংক্রাই, বৈসু, বিষু, বিহু, সাংগ্রাইং, থাংগ্রেন, বিঝু উপলক্ষে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকারি ছুটিসহ চার দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
সোমবার (১০ মার্চ) রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে বারোটি আদিবাসী ছাত্র সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অনন্ত তঞ্চঙ্গ্যা লিখিত বক্তব্যে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ১৪টি ভিন্ন ভাষাভাষী আদিবাসী জাতিসমূহের নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রয়েছে, যা বাঙালি সংস্কৃতি থেকে স্বতন্ত্র। চৈত্র সংক্রান্তি ও নববর্ষ বরণের অংশ হিসেবে তারা বিভিন্ন নামে প্রধান সামাজিক উৎসবটি উদযাপন করে আসছেন। কিন্তু সরকারি ছুটির অভাবে আদিবাসী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও শ্রমিকরা তাদের উৎসব পালন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়:
১. দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১২-১৬ এপ্রিল পর্যন্ত পাঁচ দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা।
২. উৎসবের সময়ে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষাসহ কোনো পাবলিক পরীক্ষা না রাখা।
৩. সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিল্প কারখানায় কর্মরত আদিবাসী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি প্রদান।
৪. উৎসব উপলক্ষে শিল্প কারখানায় কর্মরত আদিবাসী শ্রমিকদের ছুটি নিশ্চিত করা।
সংবাদ সম্মেলন শেষে দাবিসমূহ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঢাকা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
বিএমএসসি ঢাকা মহানগরের নুমং প্রু মারমার সঞ্চালনায় এসময় উপস্থিত ছিলেন পিসিপির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রুমেন চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি শান্তি দেবী তঞ্চঙ্গ্যা, ঢাকাস্থ ম্রো শিক্ষার্থী পরিবারের পায়া ম্রো, বাংলাদেশ চাক স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সহকারী তথ্য ও প্রচার সম্পাদক উথান চাক, টিএসএফের কর্ণ জ্যোতি ত্রিপুরা, বাংলাদেশ তঞ্চঙ্গ্যা স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার ফোরামের সদস্য স্নেহলাল তঞ্চঙ্গ্যা, বম ছাত্র সমাজের প্রতিনিধি লাললিং বম, বাংলাদেশ খুমী স্টুডেন্টস কাউন্সিলের সদস্য সাংখেঅং খুমী এবং বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের যুগ্ম আহ্বায়ক রুপাইয়া শ্রেষ্ঠা তঞ্চঙ্গ্যা প্রমুখ।
বায়ান্ন/আরএস