বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি শেষে বেনাপোল বন্দর আবারও কর্মব্যস্ত হয়ে উঠেছে। রোববার সকাল থেকে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে পুরোদমে আমদানি-রপ্তানি শুরু হয়েছে বলে বেনাপোল কাস্টম হাউসের কার্গো শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা রোমেন মিত্র জানিয়েছেন। এর আগে ১৭ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত শারদীয় দুর্গাপূজার সরকারি ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা ৮ দিন এ পথে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ ছিল। তবে এ সময়ে পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকলেও দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক ছিল।
আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও বেনাপোল বন্দরে ১৮ ও ১৯ অক্টোবর পণ্য ওঠানামা, খালাস ও পণ্যের শুল্কায়নের কাজকর্ম স্বাভাবিক ছিল। সে সঙ্গে বেনাপোল বন্দর থেকে পণ্য খালাসের পর ভারতীয় ট্রাকগুলো নিজ দেশে ফিরে গেছে।
তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এক আদেশে আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত কার্যক্রম সীমিত আকারে চলমান রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। সে হিসেবে শনিবার বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য শুরুর কথা থাকলেও সার্ভারের সমস্যার কারণে তা বাধাগ্রস্ত হয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর পচনশীল কিছু পণ্য ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এদিন ভারত থেকে ৬২ ট্রাক পণ্য আমদানি এবং বাংলাদেশ থেকে ৩৬ ট্রাক পণ্য রপ্তানি হয়েছে বলে জানান কার্গো শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা রোমেন মিত্র।
বেনাপোল কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান বনি জানান, রোববার সকাল থেকে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটি শেষে রোববার বন্দর ও কাস্টম হাউসের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় গোটা বন্দরে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। ছুটির কারণে সীমান্তের দুই পাশে পণ্যজট সৃষ্টি হয়েছিল। আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হওয়ায় ট্রাকজট কমতে শুরু করেছে। রোববার বন্দর থেকে পণ্য খালাস শুরু হওয়ায় পণ্যজটও দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। বন্দরে পণ্য লোড-আনলোডের জন্য দুই হাজার হ্যান্ডলিং শ্রমিক কাজে যোগ দিয়েছেন। এছাড়া ব্যবসায়ী, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, বন্দর ও কাস্টমসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পণ্য খালাসে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (ট্রাফিক) রুহুল আমিন জানান, শনিবার দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য চালুর চেষ্টা করা হলেও সার্ভার সমস্যার কারণে তা পূর্ণাঙ্গভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। সাপ্তাহিক ছুটি শেষে রোববার আমদানি-রপ্তানিসহ বন্দর ও কাস্টমসের কাজকর্ম পুরোদমে শুরু হয়েছে। কাস্টমস ও বন্দরের যে সমস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী ছুটিতে গিয়েছিলেন, তাঁরা সবাই কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। ব্যবসায়ীরা যাতে বন্দর থেকে তাঁদের আমদানি করা পণ্য দ্রুত খালাস করে নিতে পারেন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।