বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম কুরুকপাতা ইউনিয়নের তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছ থেকে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি এবং তা না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন পোর্টালে মিথ্যা সংবাদ প্রচারের অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শিক্ষকরা প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযুক্তরা হলেন রাসেল মজুমদার, সুজন চৌধুরী, মাহফুজুর রহমান মোর্শেদ (টমটম মোর্শেদ), তৌহিদুল ইসলাম মাহমুদ ও হাসান মাহমুদ। অভিযোগে বলা হয়, কুরুকপাতা ইউনিয়নের কমচঙ ইয়ুংছা মাউরুম পাড়া, খিদু পাড়া এবং রাংলাই দাংলি পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিকট বিবাদীরা দীর্ঘদিন ধরে মাসিক ভিত্তিতে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। গত ২৭ এপ্রিল রাসেল মজুমদার, সুজন চৌধুরী ও মাহফুজুর রহমান খিদু পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে সৌজন্যমূলক ছবি ও বিদ্যালয়ের ছবি তোলেন। পরে ওই ছবিগুলো নেতিবাচক প্রচারণায় ব্যবহারের হুমকি দিয়ে ৮০ হাজার টাকা দাবি করা হয়।
এরপর গত ৩ মে সন্ধ্যায় আলীকদম সদরের একটি রেস্তোরাঁয় শিক্ষকদের ডেকে প্রতিটি বিদ্যালয় থেকে ৮০ হাজার টাকা হারে মোট ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চক্রটি জানায়, এটি হাসান মাহমুদ ও তৌহিদুল ইসলামের পরামর্শে নেওয়া সম্মিলিত সিদ্ধান্ত। শিক্ষকরা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিবাদীরা তাদের ফেসবুক আইডি ও কয়েকটি বেনামি অনলাইন পোর্টালে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অনুপস্থিতির অভিযোগ তুলে কুরুচিপূর্ণ ভিডিও ও মিথ্যা সংবাদ প্রচার শুরু করেন।
ভুক্তভোগী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আরিফ বিল্লাহ, মায়ারাম ত্রিপুরা ও সুব্রত মল্লিক জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সড়ক ও জলপথ পাড়ি দিয়ে প্রতিকূল পরিবেশে তাঁরা নিয়মিত পাঠদান করছেন। তাঁদের ভাষ্য, সাংবাদিকতার সাইনবোর্ড ব্যবহার করে চক্রটি শিক্ষকদের পেশাগত ও ব্যক্তিগত সম্মান ক্ষুণ্ণ করে আর্থিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে। তাঁরা সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযুক্ত ৫ জনের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে এলাকায় ঠিকাদার, পেশাজীবী ও জনপ্রতিনিধিদের হয়রানি এবং চাঁদাবাজির পুরোনো অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের একজন সুজন চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “শিক্ষকদের অভিযোগের ব্যাপারে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই। তথ্য-প্রমাণাদি নিয়েই আমরা কাজ করেছি।”