দেশের খবর

ভেটেরিনারি সার্জনের পদ বাড়ানোর দাবিতে গাকৃবিতে মানববন্ধন

গাজীপুর প্রতিনিধি: ভেটেরিনারি পেশার কাঠামোগত সংস্কার ও উন্নয়ন, পেশাগত স্বকীয়তা এবং অধিকার রক্ষায় তিন দফা দাবিতে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) মানববন্ধন করেছেন ভেটেরিনারি মেডিসিন অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্স (এফভিএমএএস) অনুষদের শিক্ষার্থীরা।

 

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদ, প্রশাসনিক ভবন ও প্রধান ফটকের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষকরা একাত্মতা প্রকাশ করেন।

 

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, দেশের মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ, প্রাণীর রোগ নিয়ন্ত্রণ, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নিরাপদ প্রাণিজ খাদ্য নিশ্চিত করতে ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। জনসংখ্যা ও প্রাণিসম্পদের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে প্রাণিস্বাস্থ্যসেবার চাহিদা বাড়লেও সে অনুযায়ী মাঠপর্যায়ে ভেটেরিনারি জনবল কাঠামো সম্প্রসারিত হয়নি।

 

শিক্ষার্থীরা জানান, ১৯৬০-এর দশকে থানা পর্যায়ে প্রাণিসেবা নিশ্চিত করতে ‘থানা সহকারী ভেটেরিনারি সার্জন’ (টিএভিএস) পদ সৃষ্টি করা হয়। পরে ১৯৮৩-৮৪ সালে নবম গ্রেডে ক্যাডারভুক্তির মাধ্যমে পদটি ‘ভেটেরিনারি সার্জন’ (ভিএস) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। তাঁদের দাবি, প্রায় ছয় দশক পরও উপজেলা পর্যায়ে একজন ভেটেরিনারি সার্জনের মাধ্যমে পুরো উপজেলার প্রাণিচিকিৎসা ও সেবা কার্যক্রম পরিচালনার বাস্তবতা উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়নি।

 

মানববন্ধনে বক্তারা সম্প্রতি উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে ‘সহকারী ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ অফিসার’ নামে ৪৯২টি পদ সৃষ্টির বিষয়ে অর্থ বিভাগের সম্মতির খবরের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁদের ভাষ্য, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২৪৬টি এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরে আরও ২৪৬টি পদ সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে।

 

শিক্ষার্থীদের দাবি, নতুন পদ সৃষ্টির উদ্যোগ ভেটেরিনারি স্বাস্থ্যসেবা ও জনস্বাস্থ্য কার্যক্রম জোরদারে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে পদটির গ্রেড, নিয়োগের যোগ্যতা ও পেশাগত কাঠামো স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা জরুরি। ভেটেরিনারি গ্র্যাজুয়েটদের দীর্ঘমেয়াদি ক্লিনিক্যাল ও একাডেমিক শিক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে পদ কাঠামো নির্ধারণ করা হলে ভবিষ্যতে দায়িত্ব বণ্টন ও পেশাগত কাঠামো নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলেও তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

 

মানববন্ধন থেকে তিন দফা দাবি তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—‘সহকারী ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ অফিসার’ পদটি নবম গ্রেডে উন্নীত করে শুধু নিবন্ধিত ভেটেরিনারিয়ানদের নিয়োগ দেওয়া; ক্যাডার কাঠামোর বাইরে নন-ভেটেরিনারিয়ানদের পদোন্নতির মাধ্যমে নিবন্ধিত ভেটেরিনারিয়ানদের সমকক্ষ বা উচ্চতর পদে পদায়নের সুযোগ ভবিষ্যতে না রাখা; এবং প্রাণিসম্পদ খাতের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিটি উপজেলায় চারটি করে ভেটেরিনারি সার্জনের পদ দ্রুত সৃষ্টি ও এসব পদে নিবন্ধিত ভেটেরিনারিয়ানদের নিয়োগ নিশ্চিত করা।

 

মানববন্ধনে ভেটেরিনারি অনুষদের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. নাসিম আহমেদ বলেন, ‘প্রাণিসম্পদ খাত শুধু দুধ, ডিম ও মাংস উৎপাদনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। প্রাণীর রোগ নিয়ন্ত্রণ, প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত রোগ প্রতিরোধ এবং নিরাপদ প্রাণিজ খাদ্য নিশ্চিত করার সঙ্গেও এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তাই মাঠপর্যায়ে দক্ষ ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভেটেরিনারি জনবল নিশ্চিত করা জরুরি।’

 

অন্যান্য শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রাণিসম্পদ ও জনস্বাস্থ্যের পরিবর্তিত চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে ভেটেরিনারি পেশার জনবল কাঠামো আধুনিক ও সময়োপযোগী করা প্রয়োজন। তাঁদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন হলে প্রাণিস্বাস্থ্যসেবা আরও কার্যকর ও জনবান্ধব হবে বলে তাঁরা আশা করেন।

 

পরে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে তাঁদের দাবির প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।



সম্পর্কিত খবর