চট্টগ্রাম প্রতিদিন

আলীকদমে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার কক্সবাজার সদর হাসপাতালে মারা যায় তুমরাও ম্রো নামের এক বছর বয়সী শিশুটি।

 

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, মৃত শিশু তুমরাও ম্রো আলীকদমের কুরুকপাতা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেনরুওয়া পাড়ার বাসিন্দা। তার বাবা মেনথক ম্রো। গত বুধবার শিশুটিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে জরুরি ভিত্তিতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়।

 

এ নিয়ে উপজেলায় হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয়জনে।

হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ম্রো শিশুদের তালিকা:

 

১. জংরুং ম্রো (৩ মাস), পিতা: লেংক্লাং ম্রো, মাতা: কামবুং ম্রো, গ্রাম: রিংলত ম্রো পাড়া, ৯ নম্বর ওয়ার্ড, কুরুকপাতা ইউনিয়ন।

২. খতং ম্রো (৭ মাস), পিতা: লুকুন ম্রো, মাতা: কাইরু ম্রো, গ্রাম: রিংলত ম্রো পাড়া, ৯ নম্বর ওয়ার্ড, কুরুকপাতা ইউনিয়ন।

৩. চাংমুম ম্রো (৮), পিতা: পাসং ম্রো, মাতা: তুমরুম ম্রো, গ্রাম: রুইতন পাড়া, ৯ নম্বর ওয়ার্ড, কুরুকপাতা ইউনিয়ন।

৪. তাইতুং ম্রো (১১), পিতা: পাচই ম্রো, মাতা: দনরাম ম্রো, গ্রাম: রুইতন পাড়া, ৯ নম্বর ওয়ার্ড, কুরুকপাতা ইউনিয়ন।

৫. যংরাও ম্রো (৮), পিতা: প্রলেং ম্রো, গ্রাম: যংএ পাড়া, ৯ নম্বর ওয়ার্ড, সিন্দুমুখ এলাকা, কুরুকপাতা ইউনিয়ন।

৬. তুমরাও ম্রো (১), পিতা: মেনথক ম্রো, গ্রাম: মেনরুওয়া পাড়া, ৭ নম্বর ওয়ার্ড, কুরুকপাতা ইউনিয়ন।

 

আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ মে পর্যন্ত হাসপাতালে সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ৩০৪ জন। এর মধ্যে ২৫৩ জনকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা শেষে ১৭৩ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ছয়জনকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৭৪ জন রোগী। এ ছাড়া বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগ থেকে সেবা নিয়েছেন আরও ৫১ জন।

 

দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হামের বিস্তার রোধে স্বাস্থ্য বিভাগ পোয়ামুহুরী ও কুরুকপাতায় দুটি অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প চালু করেছে। এই দুই ক্যাম্প থেকে এখন পর্যন্ত ৪১০ জন হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনতে স্বাস্থ্যকর্মীরা বিভিন্ন পাড়ায় গিয়ে কাজ করছেন। দুর্গম এলাকায় চিকিৎসাসেবা ও টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

 

এদিকে আগামীকাল কুরুকপাতা মৈত্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপিত অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প পরিদর্শনে যাবেন বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তিনি সেখানে চিকিৎসাসেবার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন।



সম্পর্কিত খবর