মতিঝিল-কমলাপুর এলাকার উচ্ছেদকৃত ১৭২টি অটোমোবাইল ওয়ার্কশপের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অটোমোবাইল ওয়ার্কশপ মালিক সমিতি। বুধবার (১৩ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এ দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, মতিঝিল-কমলাপুর এলাকার দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত অটোমোবাইল ওয়ার্কশপগুলো উচ্ছেদের ফলে শত শত ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও তাদের পরিবার আজ মানবেতর জীবনযাপন করছে। এই খাত শুধু ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়, বরং দেশের পরিবহন ব্যবস্থা সচল রাখা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। তারা বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, উন্নয়নের স্বার্থে যে কোনো কার্যক্রম বাস্তবায়নের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষের জন্য মানবিক ও পরিকল্পিত পুনর্বাসন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আমরা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, রাজউক ও নীতিনির্ধারকদের নিকট বলছি আমাদের সমাধান দেন। এ সময় মানববন্ধন থেকে ৪ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— মতিঝিল-কমলাপুর এলাকার উচ্ছেদকৃত সব ওয়ার্কশপের দ্রুত পুনর্বাসন নিশ্চিত করা। রাজধানীর প্রতিটি আধুনিক নগর উন্নয়ন প্রকল্পে অটোমোবাইল ওয়ার্কশপ জোন, অন্তর্ভুক্ত করা। ক্ষতিগ্রস্ত ওয়ার্কশপ মালিক ও শ্রমিকদের পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত উচ্ছেদ কার্যক্রম স্থগিত রাখা এবং অটোমোবাইল খাতকে শিল্পখাত হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে পরিকল্পিত অবকাঠামো গড়ে তোলা। মানববন্ধনে বাংলাদেশ অটোমোবাইল ওয়ার্কশপ মালিক সমিতির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. জাহাঙ্গীর আলম সহ সমিতির নেতা এবং ওয়ার্কশপের শ্রমিকরা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে : রোববার (১২ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশ অটোমোবাইল ওয়ার্কশপ মালিক সমিতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধিত এবং এফবিসিসিআই-অধিভুক্ত একটি বাণিজ্য সংগঠন। মতিঝিল–কমলাপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত সমিতির অন্তর্ভুক্ত ১৭২টি ওয়ার্কশপ হঠাৎ উচ্ছেদ করা হলে হাজারো শ্রমিক ও কর্মচারী চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়বেন। নেতারা বলেন, দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে অটোমোবাইল ওয়ার্কশপগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এসব ওয়ার্কশপ শুধু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং উদ্যোক্তাদের নিজস্ব অর্থায়নে দক্ষ কারিগর তৈরির প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করছে। এখান থেকে তৈরি হওয়া অনেক দক্ষ জনশক্তি বিদেশেও কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন এবং রেমিট্যান্স পাঠিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। তারা আরও বলেন, এই খাতের উদ্যোক্তারা নিয়মিত ভ্যাট ও কর পরিশোধের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। প্রায় ২৫ বছর ধরে প্রতিষ্ঠিত এসব ওয়ার্কশপ হঠাৎ উচ্ছেদ করা হলে দেশের চলমান যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে মানবিক ও বাস্তবতা বিবেচনায় উচ্ছেদ কার্যক্রম অবিলম্বে স্থগিত রাখা, পর্যাপ্ত সময় দেওয়া এবং পরিকল্পিত পুনর্বাসনের মাধ্যমে খাতটিকে টেকসইভাবে পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. জাহাঙ্গীর আলমসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।