জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা নির্বাচন কমিশনের অধীনে রাখার দাবিতে আন্দোলনে নামা সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের ‘অপারেশনাল হল্ট’ কর্মসূচি স্থগিত করেছেন।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাজধানীর নির্বাচন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তাদের কর্মসূচি স্থগিতের তথ্য জানিয়েছেন ইলেকশন কমিশন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ মনির হোসেন।
নির্বাচন কমিশন একাধিকবার বলেছে এবং লিখিত জানিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে স্বাধীনভাবে কাজ করতে এনআইডি নির্বাচন কমিশনের অধীনে রাখা দরকার। এখানে কোনো স্বার্থের বিষয় নেই বলে নিজেদের অবস্থান পরিস্কার করেন তিনি।
আমাদের দাবি নিয়ে ইসি তৎপর রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবও আশস্ত করেছেন।
এনআইডি সেবা সুচারুভাবে চালিয়ে নিতে সিভিল রেজিস্ট্রেশন কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অন্যদিকে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন ন্যাশনাল সিটিজেন ডেটা কমিশন নামে একটি স্বতন্ত্র সংবিধিবদ্ধ সংস্থা করার সুপারিশ রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে এনআইডি সেবা ইসির অধীন থেকে সরানোর দাবিতে গত ১৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ের নির্বাচন অফিসের সামনে স্ট্যান্ড ফর এনআইডি কর্মসূচি পালন করেন ইসি কর্মীরা। এ সময় দুই ঘণ্টা সারা দেশে এনআইডিসহ নির্বাচন সংক্রান্ত কার্যক্রম বন্ধ ছিল।
জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন, ২০২৩ বাতিল করে এনআইডি কার্যক্রম নির্বাচন কমিশনের অধীনে ফেরানোর দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। এর অংশ হিসেবেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, দাবি পূরণে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে বুধবার অপারেশনাল হল্ট নামে কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করা হবে।
ইসি কর্মীদের দাবি পূরণের প্রক্রিয়া দেরি হলে আগামীতে কমপ্লিট শাটডাউন’কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ার করেন নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক (ডিজি) এসএম আসাদুজ্জামান।
সর্বশেষ ২০২৩ সালে একটি আইন করে এনআইডি সেবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের অধীনে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ তুলেন ইসি কর্মকর্তারা। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার ওই আইনটি বাতিল করে এনআইডি ইসির অধীনেই রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে একটি চিঠিও দিয়েছিল।
বায়ান্ন/এমএমএল/একে