জাতীয়

এনআইডি ইসিতে রাখতে সরকারকে লিখিত দাবি জানাবো: সিইসি

১৩ মার্চ থেকে কর্মবিরতিতে যাওয়ার হুশিয়ারি ইসি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের

এনআইডি ইসির কাছে আছে, থাকবে-এ বিষয়ে কমিশন সম্পূর্ণ একমত নিজেদের অবস্থান পরিস্কার করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, আমাদের মতামত সরকারের কাছে লিখিতভাবে জানাবো। আর্জেন্ট বেসিসে এটা জানানো হবে। তবে, ইসির মতামত ছাড়া এনআইডি অন্য কোথাও যাবে না বলে প্রত্যাশা করছেন সিইসি। 

এদিকে এনআইডি ইসিতে রাখার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত না আসলে ১২ মার্চ মানবন্ধন ও ১৩ মার্চ থেকে কর্মবিরিতির হুশিয়ারি দিয়েছেন ইসি কর্মকর্তা-কর্মচারিরা। 

বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) এনআইডি সেবা কার্যক্রম নির্বাচন কমিশনের অধীনে রাখার দাবিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কক্ষের সামনে ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে এ কথা বলেন সিইসি।

জন্ম নিবন্ধন, এনআইডি ও পাসপোর্ট সেবা নিয়ে দুর্ভোগ-জটিলতা নিরসনে স্বতন্ত্র কমিশন করার উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সেই লক্ষ্যে ‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন (কমিশন), ২০২৫’ নামে একটি অধ্যাদেশের খসড়া তৈরির কাজ চলছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ নিয়ে স্থানীয় সরকার, সুরক্ষা সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের মতামতও নিচ্ছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিনের কাছে।

নিজ কক্ষের সামনে অবস্থান করা কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করে সিইসি বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে এমন কোনো বিষয় আমি শুনি নি। এমন আলাপ আলোচনা হয়েছে, হয়ত নীতিগত বিষয়ে চিন্তা চলছে। কিভাবে এটা করা হতে পারে এ নিয়ে আলোচনা চলছে।

আমাদের যখন মিটিংয়ে ডাকা হলো তখন আমরা জানলাম (উদোগের কথা) উল্লেখ করে তিনি বলেন, অফিসার গেছে মিটিংয়ে। সরকার হয়ত চিন্তা করছে একটা জায়গা থেকে সার্ভিস টা দেবে। এনআইডি ইসির কাছে আছে, থাকবে-এ বিষয়ে কমিশন সম্পূর্ণ একমত। আমাদের মতামত সরকারের কাছে লিখিতভাবে জানাবো। আর্জেন্ট বেসিসে এটা জানানো হবে।

এএমএম নাসির উদ্দিন জানান, এনআইডি তো ভোটার রেজিস্ট্রেশনের একটা বাইপ্রোডাক্ট। ১৭ বছর ধরে ইসি কর্মকর্তারা শ্রম দিয়েছে, সারাদেশে নেটওয়ার্ক ডেভলপ করছে। সার্বিক বিষয়গুলো সরকার ডেফিনেটলি বিবেচনায় নেবে। হয়ত ইনফরমেশনের একটা গ্যাপ থাকতে পারে। কমিশনের লিখিত মতামত পাওয়ার পর নিশ্চয়ই এ গ্যাপটা থাকবে না। 

এ ব্যাপারে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার জানিয়ে সিইসি বলেন, সবার সম্মতিতেই কাজটা করছি।… আই এম নট দি আলটিমেট ডিসিশন মেকার। আমি ইসিকে রিপ্রেজেন্ট করি, ইসির পক্ষে কথা বলতে পারি। সরকারের কাছে অবস্থান তৈরি করতে পারি। সরকার তো অনেক উপরের ব্যাপার। আমরা সাংবিধানিক সংস্থা। আইন যদি সরকার করে ফেলে আমাদের আইন মানতে হয়। কিন্তু আইন বানানোর প্রক্রিয়ায় আমাদের মতামত জরুরিভাবে তুলে ধরবো।

এ সময় নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক এসএম আসাদুজ্জামান বলেন, এনআইডি কাযক্রম যাতে ইসি থেকে না যায় সে বিষয়ে কমিশন সব উদ্যোগ নেবে, আমরা ইসির সাথে আছি। এনআইডি যদি ইসি থেকে নির্বাচন হুমকির মুখে পড়বে। আমাদের উদ্বেগ জানিয়ে স্মারণলিপি দিয়েছি, কর্মসূচি রয়েছে।

বাংলাদেশ ইলেকশন কমিশন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, এনআইডি নিয়ে বারবার একেক সময় একেকরকম সুবিধাভোগী শ্রেণী তৈরি হয়। তারা এনআইডি নিয়ে টানা হেঁচড়া করে। এর আগে একাধিকবার চেষ্টা হয়েছিল, মাছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। এখন আবার নতুন কমিশন তৈরি করে তাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

আমরা মনে করি, কোনো না কোনো উদ্দেশ্যে এগুলো করা হচ্ছে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, আমরা এসোসিয়েশেনের পক্ষ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা করেছি।

১৭-১৮ বছর ধরে কোনো সমস্যা হয় নি উল্লেখ করে ইসির এ কর্মকর্তা বলেন, আজকে এমন কোনো পরিবেশ তৈরি হয় নি বলে আমরা বিশ্বাস করি, এনআইডি ইসি থেকে অন্য কোথাও যাবে। আমরা কমিশনকে জানিয়েছি, সময় দিয়েছি আগামী বুধবারের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি প্রত্যাশা করছি। তা না হলে ১৩ মার্চ ইসি সচিবালয়সহ সারাদেশে কর্মকর্তা-কর্মচারিরা ১১-১টা পর্যন্ত মানবন্ধন করবো। তারপরও দাবি পূরণ না হলে কর্মবিরতিসহ  আরো কঠোর কর্মসূচিতে যাবো।

বায়ান্ন/এমএমএল/একে

 



সম্পর্কিত খবর