গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) প্রথমবারের মতো জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। ‘উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ উন্নয়ন অনুষদের উদ্যোগে র্যালি, বৃক্ষরোপণ ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচির শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ উন্নয়ন অনুষদ চত্বরে কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান ও সেন্টার অন ইন্টিগ্রেটেড রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিকের (সিরডাপ) মহাপরিচালক ড. পি চন্দ্র শেখর। পরে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে একটি র্যালি বের হয়ে বেগম সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়।
পরে মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন সিরডাপের মহাপরিচালক ড. পি চন্দ্র শেখর। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহিদুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সফিউল ইসলাম আফ্রাদ, নিবন্ধক মো. আবদুল্লাহ্ মৃধাসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, পরিচালক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ড. পি চন্দ্র শেখর বলেন, গ্রামীণ জনগণের উন্নতি হলে রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব। গ্রামীণ সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের জন্য সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি শিক্ষার্থীদের প্রক্রিয়াজাতকরণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনা সভায় ‘পল্লী উন্নয়ন: জাতীয় অর্থনীতির ভিত্তি’ শীর্ষক মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ উন্নয়ন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মঞ্জুরুল ইসলাম। অনুষ্ঠান চলাকালে শিক্ষার্থীদের নির্মিত ভিজ্যুয়াল প্রামাণ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, পল্লীর উন্নয়ন শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়; মানুষের জীবনমান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও মর্যাদার উন্নয়নও এর অংশ। জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে পল্লীর মানুষের পাশে থেকে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে সিরডাপ-আরইইডিএস ইন্টারন্যাশনাল রুরাল ডেভেলপমেন্ট ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ-২০২৬-এর আঞ্চলিক বিজয়ী গাকৃবির শিক্ষার্থী দল ‘কার্বডিট’-এর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পরে দলগত আলোকচিত্র গ্রহণের (গ্রুপ ফটোসেশন) মাধ্যমে আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।