গাজীপুর মহানগরের সদর থানাধীন চাপুলিয়া এলাকায় ক্রয়কৃত জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে একদল ভূমিদস্যুর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এক সাংবাদিকসহ তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
ভুক্তভোগী মো. শুকুর আলী (৬৩) জানান, তিনি প্রায় ১৪ বছর ধরে চাপুলিয়া মৌজায় ক্রয়কৃত ৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ জমি ভোগদখলে রেখেছেন। জমির সীমানা নির্ধারণ করে খুঁটি ও বেড়া স্থাপন করা ছিল। সম্প্রতি তিনি আইনগত ভাবে ওই জমির ৩ দশমিক ৩০ শতাংশ বিক্রি করেন আনন্দ টিভির গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি মো. জসিম উদ্দিনের কাছে। বিক্রয়ের পর জমির নির্ধারিত অংশে সাইনবোর্ডও স্থাপন করা হয়।
থানার অভিযোগে বলা হয়, মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে স্থানীয় ভূমিদস্যু রুহুল আমিন, তার স্ত্রী তামান্না ফেরদৌসী আশা, নাসিমা সুলতানা, সাইফুল ইসলাম সাব্বিরসহ কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে। তারা সীমানা খুঁটি ও বেড়া ভেঙে ফেলে। এতে বাধা দিলে মো. শুকুর আলী, তার ছেলে রাসেল মিয়া (৩৮) এবং সাংবাদিক মো. জসিম উদ্দিনকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে রুহুল আমিন লোহার রড দিয়ে রাসেল মিয়ার কানে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় রাসেল মিয়ার কাছ থেকে নগদ ২৭ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া সাংবাদিক জসিম উদ্দিনের ব্যবহৃত স্যামসাং আলট্রা-২১ মডেলের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ভাঙচুরের চেষ্টা করা হয়। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পুনরায় হামলা ও মিথ্যা মামলায় হয়রানির হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। স্থানীয়দের সহায়তায় আহত রাসেল মিয়া ও সাংবাদিক জসিম উদ্দিনকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানান, রাসেল মিয়ার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. শুকুর আলী গাজীপুর সদর মেট্রো থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এবিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।