কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাকে জাতীয় কবির মর্যাদা দিয়েছিলেন। তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী মসজিদের পাশে কবর দেওয়ার জন্য ভূমিকা রেখেছিলেন। আমাদের জাতীয় সংগীত রবীন্দ্রনাথ থেকে ধার করে নিয়ে পড়ি। তিনি মনে করতেন, সবার ওপরে মানুষ সত্য তাহার ওপর নাই। এখানে ধর্মের কোনো বিভেদ নেই।
রবিবার (২৪ মে) সন্ধ্যায় ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উৎসবের দ্বিতীয় দিনের আলোচনাসভার প্রধান অতিথি বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘শিল্প-সাহিত্য আমাদের জীবনের অভিচ্ছেদ্য অংশ, সেটা অনেকটা হারিয়ে যেতে বসেছিল। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এই চর্চার পরিবর্তে যুবসমাজ মাদকের দিতে ধাবিত হয়েছিল, অস্ত্রবাজি আর গুণ্ডামিতে নিমজ্জিত হয়েছিল।
রামিসার বিচার প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী রামিসার বাসায় গেছেন। ৭ ঘণ্টার মধ্যে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। আমাদের প্রতি আস্থা রাখুন। অস্থিতিশীলতা তৈরি করে অপরাধীদের শাস্তি থেকে বিরত রাখতে পারবেন না। জুলাই বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে অর্জিত এই দেশে ১৪০০ শহীদের রক্তে রঞ্জিত এই মাটিতে কোনো অপরাধী পার পাবে না। কোনো ধরনের উসকানি দিয়ে আমাদের থামানো যাবে না।’
আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা এই দেশটাকে শিশুর বসবাসযোগ্য হিসেবে গড়ে তুলব। যদি ব্যর্থ হই, হেলাল হাফিজের কবিতার মতো বলতে হয়, আমাদের এ প্রজন্ম উত্তর পুরুষের ভীরু কাপুরুষের উপমা হয়ে রয়ে যাব।’
নজরুলের রাজনৈতিক জীবন নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সাম্যের কবি, দ্রোহের কবি, বিদ্রোহী কবি নজরুল ছিলেন অসাধারণ ব্যতিক্রম প্রতিভার অধিকারী। কাজী নজরুল ইসলাম একটি ইতিহাস, একটি প্রতিষ্ঠান; তিনি নিজেই একজন ইনস্টিটিউট। অসাম্প্রদায়িক ভারতবর্ষ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে রাজনীতিবিদদের ভূমিকা উপলব্ধি করে তিনি রাজনীতি করার চিন্তা করেন। সরাস পার্টি নামে একটি দল করে ভারতের কেন্দ্রীয় আইন সভায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেন। কিন্তু সেই সময় কংগ্রেসের প্রতারণার কারণে তিনি পরাজিত হন।
ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শরিফুল আলম, ত্রিশাল আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন, বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মী এনডিসি, ডিআইজি আতাউল কিবরিয়া। এছাড়া এতে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নজরুল গবেষক ড. ইঞ্জিনিয়ার মো. খালিকুজ্জামান, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান ড. মো. হাবিবুল মাওয়া, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের নজরুল ইনিস্টিটিউটের পরিচালক রাশেদুল আনাম।