ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা, টাস্কফোর্স গঠন, আমদানির অনুমোদনসহ সরকারের নানা পদক্ষেপ অব্যাহত থাকার কারণে নিত্যপণ্যের বাজারে ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, ডিম ও সবজিসহ অধিকাংশ পণ্যের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসলেও উঠানামা করছে চালের বাজার। বাড়ছে তেল, চিনি, আলু ও ছোলার দাম। ফলে পবিত্র রমজান মাসে ফের নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির হয়ে উঠবে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করছেন ভোক্তারা।
খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়িরা জানিয়েছেন, কিছ-কিছু পন্যের সরবরাহ বেড়েছে, এ কারণে বাজারে অনেকটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। চালের দাম বাড়লেও আগের চেয়ে কমেছে বলে মন্তব্য ব্যবসায়িদের।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত সপ্তাহে চালের পাইকারি বাজারে বস্তা প্রতি ১৫০-১৮০ টাকা কমলেও বুধবার ২৫ ও ৫০ কেজি চালের বস্তা প্রতি ৫০-৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। খুচরা বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় চালের প্রতি কেজিতে ৩-৪ টাকা বেড়েছে।
আমনের ভরা মৌসুমেও চালের দাম বাড়তি প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম চাল মিল মালিক সমিতির সভাপতি ফরিদ উদ্দিন আহমদ বলেন, আমদানির ফলে চালের বাজার অনেকটা স্থিতিশীল তবে দাম পুরোপুরি সাধ্যের মধ্যে আসতে আরো কিছুদিন সময় লাগবে।
খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি পাইজাম ও মিনিকেট চাল ৭০-৭২ টাকা, কাটারিভোগ ৮৩-৮৫ টাকা, আটাইশ ৬২-৬৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পাইকারি বাজারের ব্যবসায়িদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, স্বর্ণা ও ইরি মানের মোটা চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫২-৫৪ টাকা, মাঝারি আকারের চাল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০-৬২ টাকা এবং চিকন চাল ৭০-৭২ টাকা।
জানা গেছে, চালের দাম স্থিতিশীল রাখতে শুল্ক প্রত্যাহার, বিপুল পরিমাণ চাল আমদানির কারণে গত সপ্তাহে বস্তা প্রতি ১৫০-১৮০ টাকা কমলেও বুধবার ২৫ ও ৫০ কেজি চালের বস্তা প্রতি ৫০-৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। গত নভেম্বর মাসে দু-দফা বেড়েছিল চালের দাম। ডিসেম্বর মাসে কিছুটা কমলেও গত সপ্তাহে আবারও বাড়ানো হয়েছে চালের দাম। খুচরা বাজারের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, চট্টগ্রামের সর্ববৃহৎ পাইকারি বাজার চাক্তাই খাতুনগঞ্জে সিন্ডিকেটের কারসাজির কারণে চালের দাম উঠানামা করছে। ফলে খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়ছে বেশী।
অন্যদিকে নগরের চাক্তাই মিল মালিকরা এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, গত অক্টোবর ও নভেম্বর দুই মাসে মনপ্রতি ধানের দাম বেড়েছে ২০০ টাকা পর্যন্ত। যার প্রভাব পড়েছে চালের পাইকারি ও খুচরা বাজারে। ডিসেম্বর মাসে দাম কিছুটা কমেছে।
জানা যায়, চালের আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশের পাশাপাশি রেগুলেটরি শুল্ক ৫ শতাংশ নির্ধারিত ছিল। গত পহেলা নভেম্বর দুই শতাংশ অগ্রিম আয়কর রেখে সরকারি আদেশে শুল্ক প্রত্যাহর করা হয়।
নগরীর পাহাড়তলী-চাক্তাই চালপট্টি ঘুরে দেখা যায়, সব ধরনের চালের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। চাক্তাই চালপট্টিতে পাইকারি বাজারে মোটা সিদ্ধ চালের দাম বস্তা প্রতি (৫০ কেজি) ১৫০-১৮০ টাকা বেড়ে মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ২৮০০-২৮৫০ টাকা। একইভাবে মানভেদে বেড়েছে অন্যান্য চালের বস্তার দাম।
চাক্তাই চালের আড়তদার সাইফুল ইসলাম জানান, চালের দাম বাড়ানোতে আমাদের কোনো হাত নেই। মিলাররাই চালের দাম বাড়াতে পারেন। তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন মোকাম থেকে চাল সরবরাহ আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে, সহসাই চালের দাম কমে আসবে।
পাহাড়তলী বণিক সমিতির সভাপতি, চাল ব্যবসায়ী আবদুস সাত্তার বলেন, গত সপ্তাহে চালের দাম বস্তাপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত কমলেও সেই দাম গত সোমবার থেকে আবারও বস্তাপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
এদিকে খুচরা বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেল সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৮-১০ টাকা বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটার সয়াবিন তেল। প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৭৫ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৬৭ টাকা। প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৪৯ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৭ টাকা। খোলা পাম তেলের লিটারও ১৪৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫৭ টাকা করা হয়েছে। বোতলজাত কোম্পানীগুলো তেলের সরবরাহ কমিয়ে দেয়ার কারণে তেলের বেড়েছে এমন অভিযোগ ব্যবসায়িদের। এদিকে অস্থির চিনির বাজারও। খুচরা প্রতি কেজি প্যাকেটজাত চিনি ১৪০ টাকা ও খোলা চিনি ১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারিতে কেজিপ্রতি ব্যবধান ৫ থেকে ৬ টাকা। আলুর বাজারে কমছেনা অস্থিরতা। প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৭৫-৮০ টাকা দরে। পাইকারি বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়। নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ১০০-১১০ টাকায়।
নগরের অক্সিজেন এলাকার পাইকারি দোকান হাজী সিরাজ ষ্টোরের সত্ত্বাধিকারি এসএম শাহাবুদ্দিন জানান, তেল, চিনি এবং চালের দাম কিছুটা বাড়তি থাকলেও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম কমতে শুরু করেছে। এছাড়া সরবরাহ বাড়লে আপনা-আপনিভাবেই কমে যাবে সব নিত্যপণ্যের দাম। এদিকে বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ার কারণে সবজিতে অনেকটা স্বস্তি মিলেছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে, চাক্তাই খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ি কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন আসন্ন পবিত্র রমজানে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা নেই জানিয়ে বলেন, বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহ ধীরে-ধীরে বাড়ছে। সহসাই সব পণ্যের দাম কমে আসবে।
বায়ান্ন/প্রতিনিধি/পিএইচ