শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা—সব ঋতুতেই চা আমাদের জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। দিন শুরু হোক বা ঠাণ্ডায় গরম রাখা, এক কাপ চা সব কিছুর সমাধান করে দেয়। চা কেবল একটি পানীয় নয়, একটি একটি অভ্যাস, একটি আবেগ। কিন্তু এই শীতেও অনেকেই প্রতিদিন চা পান করার নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে চিন্তিত। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, চা খেলে কি পেটে মেদ জমে? ওজন বৃদ্ধি পায়? এসব প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খেতেই অনেকেই নিজেদের প্রিয় এই অভ্যাস ত্যাগ করছেন রাতারাতি।
আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকরা বলেন, চা ছেড়ে দেওয়ার কোনো কারণ নেই। সঠিক উপায়ে এবং সঠিক উপাদান দিয়ে চা তৈরি করে তা পান করলে ক্ষতির পরিবর্তে উপকারী হতে পারে। শীতকালে চা কেবল শরীরকে উষ্ণ রাখে না বরং বিপাকেও সহায়তা করে।
যা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
আসল সমস্যা চা নয় বরং এর উপাদান। অতিরিক্ত চিনি, অতিরিক্ত দুধ অথবা ভুল স্বাদ চা-কে অস্বাস্থ্যকর করে তুলতে পারে। সঠিক উপাদান দিয়ে চা শীতকালেও অভ্যাস তৈরি করে দেয়, ওজন বৃদ্ধির চিন্তা ছাড়াই।
শীতকালে চা কেন উপকারী : ওজন কমাতে বা স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য মানুষ প্রায়শই চা-এ আদা, দারুচিনি, কালো মরিচ ও সেলেরির মতো উপাদান যোগ করেন। এই উপাদানগুলোকে শীতকালে বিশেষভাবে উপকারী বলে মনে করা হয় কারণ এগুলোর উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রভাব রয়েছে এবং শরীরকে ভেতর থেকে উষ্ণ রাখতে সাহায্য করে।
শীতের সময়ে চা শরীরকে উষ্ণ রাখে। আদা, দারুচিনি বা গোলমরিচের মতো উপাদানের সঙ্গে মেশালে এটি ঠাণ্ডা লাগা প্রতিরোধে সাহায্য করে। হজমশক্তি উন্নত করে এবং বিপাকক্রিয়া ঠিকভাবে হয়।
এই কারণেই শীতকালে চা ছেড়ে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।
এই সময়ে শুধু খেয়াল রাখতে হবে, চা-এ অতিরিক্ত চিনি বা দুধ যেন না থাকে। যাতে এটি ক্ষতিকারক না হয়ে বরং উপকারী হতে পারে। এ ছাড়া পরিমিত পরিমাণে চা পান করা উচিত। লিকার চা একমাত্র উপকারী : চিকিৎসকরা বলেন, যদি ওজন কমানো লক্ষ্য হয়, তাহলে দুধ ছাড়া চা খাওয়া উচিত। আর এটি দিনে দুই কাপ-ই যথেষ্ট। সর্বোচ্চ ৩ কাপের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখাই ভালো। অতিরিক্ত চা পান করা ক্ষতিকারক হতে পারে।
পুদিনা : পুদিনা শরীরকে ঠাণ্ডা করে এবং হজমশক্তি বাড়ায়। চিকিৎসকদের মতে, পুদিনার গন্ধ ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। আয়ুর্বেদ অনুসারে, পুদিনা শরীরের অতিরিক্ত পিত্তকে নিয়ন্ত্রণ করে, প্রদাহ এবং অস্বস্তি কমায়। পুদিনা লিকার পান করলে পেট ফাঁপা ও ক্ষুধা কমে। ওজন কমাতে চান, এমন ব্যক্তিদের জন্য এটি ভালো অপশন।