চ্যালেঞ্জ হলেও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একদিনে হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন যে গণভোট এবং নির্বাচন একদিনে আয়োজন করা তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হবে। এ বিষয়ে সরকার কি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করেছে, না কি তাদের ওপর তা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘আমার মনে হয় চ্যালেঞ্জ হলেও এটা গ্রহণ করতে হবে, একই দিনে (নির্বাচন-গণভোট) করা।’
তিনি বলেন, ‘অন্য মন্ত্রণালয় বাজেটের লাস্ট ডেট দিয়েছে যে এত তারিখের মধ্যে আপনারা বলে দেন। কারণ ডিসেম্বরে আমরা বাজেটটা রিভাইজ করবো, জানুয়ারিতে রেডি করে রাখবো, পরবর্তী যে সরকার আসবে তাদের জন্য। তবে নির্বাচনের বাজেট, সবগুলো ওপেন আছে। নির্বাচনেরটা আমার মনে হয় শিডিউল ঘোষণার পরে ওরা আর নতুন করে কোনো খরচ চাইবে না। রেগুলার খরচ থাকতে পারে, জরুরি খরচ থাকতে পারে। সেটার ব্যবস্থা করা যাবে। তাদেরও কিছু ফান্ড আছে, অর্থ মন্ত্রণালয় আছে। অতএব নির্বাচনের ব্যাপারে কোনো চিন্তা করার দরকার নাই।’
সরকার বাজেটে নির্বাচনের জন্য তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছিল। এখন কি এটি বাড়বে- জানতে চাইলে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এখন বাড়া বা কমার বিষয়টি আমি বলতে পারবো না। কারণ ওদের রিকোয়ারমেন্ট কত রকম দিতে পারে, গণভোটের ব্যাপারটা আসছে, এটা তো আগে যখন আমরা বাজেট দিয়েছি ওই প্রজেকশনে ছিল না।’
‘সরকার থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা, যেটা প্রধান উপদেষ্টা বলে দিয়েছেন একদিনে করা। কারণ দুইদিনে করা মানে পুরো জিনিস, রিটার্নিং অফিসার মোবিলাইজ করা, এটা খুব সোজা কাজ না। এমনকি কিছু কিছু ব্যাংকের জুনিয়র অফিসার, স্কুল শিক্ষকরা ডিউটিতে যাবেন। তাদের দুইদিন নিয়ে আসবেন, এগুলো খুব কঠিন। অতএব একদিনে করা ভালো। পৃথিবীর অনেক দেশেই তো এরকম হয়। অসুবিধা হওয়ার কোনো কারণ নেই। লজিস্টিক্যালি আমার মনে হয় একদিনে করা বেটার এবং এটাই সুষ্ঠুভাবে করা যেতে পারে,’ যোগ করেন তিনি।
নির্বাচন ও গণভোট একদিনে হলে বাজেট কী হবে- এমন প্রশ্নের উত্তরে অর্থ উপদেষ্টা জানান, তারা তো বলেছেন যে নির্বাচন ও গণভোটের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয় বাড়বে। এটি খোলাখুলি বলেছেন। এখন তাদের বাজেট সংশোধন করছেন।
অর্থ উপদেষ্টা জানান, ২৫ নভেম্বর থেকে দূতাবাসে শুরু হবে বিদেশের ভোটারদের তালিকাভুক্তি। তখন দূতাবাসের খরচ যুক্ত হতে পারে। সেখানকার কর্মকর্তারা ওভার টাইম করবে। সেটার ব্যবস্থাও করা হবে। তাই সঠিক খরচের বিষয়টি তিনি এখন জানাতে পারবেন না।