রাজনীতি

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা

সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। এসময় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর একটি চৌকস দল নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ দেন। একইসঙ্গে বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর। শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শেষে তিনি স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে রাখা পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর শুক্রবার (২১ আগস্ট) বঙ্গভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।  সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে শপথ বাক্য পাঠ করান। মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনি শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ কয়েক শ অতিথি এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এ শপথের মধ্য দিয়ে মো. সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি হিসেবে বঙ্গভবনের বাসিন্দা হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

 

আওয়ামী লীগ আমলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পাওয়া মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেন। এর প্রায় চার সপ্তাহ পর নতুন রাষ্ট্রপ্রধান পেল বঙ্গভবন। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গতকাল সন্ধ্যা ৭টার দিকে বঙ্গভবনে প্রবেশ করেন মির্জা ফখরুল। এরপর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ দরবার হলে প্রবেশ করেন তিনি। দরবার হলের মঞ্চে তিনটি আসন ছিল। মাঝের আসনে বসেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তাঁর ডানে ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাঁয়ে ছিলেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। তাঁরাসহ অনুষ্ঠানের অতিথিরা নিজেদের আসন থেকে উঠে দাঁড়ালে ব্যান্ডদলের সদস্যরা বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে জাতীয় সংগীত বাজান। এরপর আসন গ্রহণ ও শপথ অনুষ্ঠান শুরুর অনুমতি প্রার্থনা করেন মন্ত্রিপরিষদসচিব।

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করা হয়। এরপর মন্ত্রিপরিষদসচিব শপথ বাক্য পাঠ করানোর জন্য অনুরোধ জানান। তখন রাষ্ট্রপতিকে শপথ বাক্য পাঠ করান ভারপ্রাপ্ত স্পিকার। শপথ পাঠ শেষ হলে শপথনামায় সই করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শপথনামা সত্যায়িত করেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার। এরপর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ফুল দিয়ে নতুন রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানান এবং নিজেদের আসন পরিবর্তন করে বসেন। রাষ্ট্রপতির শপথ শেষে শপথ নেন চার মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রী। তাঁদের শপথ শেষে রাষ্ট্রপতির অনুমতিক্রমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন মন্ত্রিপরিষদসচিব। সেই সঙ্গে অতিথিদের দরবার হলের উত্তর দিকে ক্রেডেনশিয়াল মাঠে চা-চক্রে অংশগ্রহণের অনুরোধ জানান তিনি।

 

শপথ অনুষ্ঠানে দরবার হলে অতিথিদের প্রথম সারিতে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন ও অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমদ।

 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আব্দুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীও ছিলেন সামনের সারিতে। দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য বরকত উল্লাহ বুলু, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেলসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ছিলেন অতিথিদের কাতারে। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমানবাহিনী প্রধান হাসান মাহমুদ খাঁন ও নৌবাহিনী প্রধান খোন্দকার মিজবাহ উল আজীমও আসেন রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানে।

 

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থকেও দেখা গেছে অতিথিদের সারিতে। প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম, প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর সহধর্মিণী সৈয়দা শর্মিলা রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে জাইমা রহমানও এসেছিলেন বঙ্গভবনে। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় বিরোধী জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে পরাজিত করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

 

মোট ৩৪৩টি বৈধ ভোটের মধ্যে মির্জা ফখরুল ২৫৫টি ভোট পান এবং অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট। মোট ৩৪৯ জন ভোটারের মধ্যে ছয়জন সংসদ সদস্য এই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটদানে বিরত ছিলেন। ভোট দিতে না আসা এই ছয়জন হলেন—বিএনপির সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস, মোস্তফা কামাল পাশা ও ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা, জামায়াতের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও সিলেট-৫ আসনের খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য মুফতি মো. আবুল হাসান। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ওই দিনই সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১-এর ১১ ধারা অনুযায়ী গেজেট প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করে। শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ছিলেন।

 

 

 



সম্পর্কিত খবর