খুলনা

ঝিনাইদহে তিন আ’লীগ নেতার বাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদীর মৃত্যুর পর ঝিনাইদহ শহরেও প্রতিবাদের ঢেউ আছড়ে পড়ে। মধ্যরাতে ছাত্র-জনতার মিছিলে উত্তাল হয়ে ওঠে ঝিনাইদহ শহর। মুহুর্মুহু মিছিল ও স্লোগানে ঘুমন্ত শহর মুহূর্তের মধ্যেই যেন জেগে ওঠে।

 

মিছিলকারীরা ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও খুনি হাসিনার দোসরদের প্রতিরোধ করার হুঁশিয়ারি দিয়ে ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের তিন নেতার বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে লুটপাট চালায়।

 

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টুর আরাপপুরের বাসভবন, সহ-সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কনক কান্তি দাসের হামদহ এলাকার বাসভবন এবং সদর পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান মাসুমের আদর্শপাড়ার বাড়িতে ক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এ সময় আওয়ামী লীগ নেতা কনক কান্তি দাসের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

 

কনক কান্তি দাসের ছোট ভাই স্কুলশিক্ষক গোপাল কৃষ্ণ দাস জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে বাড়ির সামনে বিক্ষোভ করতে থাকে বিক্ষুব্ধ শতাধিক লোকজন। এক পর্যায়ে তারা গেট ভেঙে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে আসবাবপত্রসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ভাঙচুর ও লুটপাট করে।

 

হামলাকারীরা আসবাবপত্র বের করে বাড়ির সামনে অগ্নিসংযোগ করে। অবস্থা বেগতিক দেখে গোপাল কৃষ্ণ দাস স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বাড়ির পেছনের দরজা দিয়ে নিরাপদে বেরিয়ে যান। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

 

এদিকে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সেনা টহল জোরদার ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

 

ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন জানান, শহরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বেশ কয়েকটি জায়গায় বিক্ষুব্ধ জনতা মধ্যরাতে মিছিল বের করে। পুলিশ তাদের সাথে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে।

 


সম্পর্কিত খবর