১৬ নদ-নদীবেষ্টিত ও হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত সীমান্তঘেঁষা উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। হাড়কাঁপানো ঠান্ডা আর হিমেল বাতাসে জবুথবু হয়ে পড়েছে এ জেলার মানুষ। এবারের শীত মৌসুমের শুরুতেই রাতভর বৃষ্টির মতো ফোঁটায় ফোঁটায় ঝরে পড়ছে ঘন কুয়াশা। বিকেল থেকেই শুরু হচ্ছে কুয়াশার দাপট, যা পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত স্থায়ী থাকছে। কয়েকদিন ধরে দেরিতে সূর্যের দেখা মেলায় বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও নিম্নআয়ের মানুষ।
শনিবার (০৩ ডিসেম্বর) জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ৯৯ শতাংশ। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের আব্দুল খালেক বলেন, কাজ না করলে পেটে ভাত জোটে না। কাজ না করলেও চলে না। তবুও এই শীতে কাজ করতে বেরিয়েছি। কাজ করলে হাত-পা যন্ত্রণা করে, শরীর কামড়ায়। মোগলবাসা ইউনিয়নের জয়নাল আবেদিন বলেন, অতিরিক্ত শীত ও ঠান্ডার কারণে আমার ছোট সন্তানের কয়েক দিন ধরে জ্বর, সর্দি ও কাশিতে ভুগছে। দেখি সদর হাসপাতালে নিয়ে যাবো।
ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের কৃষক আলম মিয়া বলেন, যে শীত আর ঠান্ডা শুরু হইছে এতে বেগুনের আবাদের খুব ক্ষতি হবে। ধারদেনা করে এতো আবাদ করেছি যদি বেগুন না হয় তাহলে ক্ষতির মুখে পড়বো। কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্যমতে, শুক্রবার সকাল ৬টায় কুড়িগ্রাম জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ, যা শীতের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে কাজে যেতে পারছেন না দিনমজুরসহ খেটে খাওয়া মানুষ।
এদিকে : শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৬ থেকে ৮ কিলোমিটার। এর আগের দিন শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ওই দিন বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৪ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার। একই দিনে জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
টানা শীত ও কুয়াশার কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, যানবাহন চালক, শিশু ও বয়স্করা। কুয়াশার কারণে সকালে অনেকেই কাজে যেতে পারছেন না। বিভিন্ন এলাকায় শীত নিবারণের জন্য মানুষকে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে। পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট এলাকার বাসিন্দা রবিউল ইসলাম বলেন, আজ খুব ঘন কুয়াশা। সামনে কিছুই দেখা যাচ্ছে না। জরুরি কাজ থাকায় কষ্ট হলেও বাইরে বের হতে হচ্ছে। সবুজ নামের এক দিনমজুর বলেন, সকালে খুব ঠান্ডা থাকে। কাজে যেতে পারছি না। কাজ না করলে খাব কী?
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি শীত মৌসুমে তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল গত ১১ ডিসেম্বর। সেদিন তাপমাত্রা নেমে আসে ৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, গত কয়েক দিন ধরে জেলার তাপমাত্রায় ওঠানামা করছে। আজ সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।