খবর প্রতিদিন

দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্র, সাংবাদিকসহ অন্তত শতাধিক আহত ও দু’জন গুলিবিদ্ধ

মৌলভীবাজার শহরে শিক্ষার্থীদের সাথে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা দফায় দফায় ঘটেছে। এতে গোটা শহর সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এ সময় অর্ধশত শিক্ষার্থী আহত ও দু’জন গুলিবিদ্ধ এবং সাংবাদিক-সহ অন্তত শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে বেশ কিছু মোটরসাইকেল। এর মধ্যে দ্বায়িত্ব পালনরত অনেক সাংবাদিকের মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে।

রবিবার ০৪ আগস্ট ২০২৪ইং, দুপুর সাড়ে ১২ টা থেকে শুরু হয় সংঘর্ষের এই ঘটনা। পরে পুরো শহর ২ ঘণ্টা সাধারণ শিক্ষার্থীদের দখলে ছিল। বিকেল ৩টার সময় পুলিশ টিয়ারশেল ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জানা যায়, পূর্ব ঘোষিত সময় অনুযায়ী রবিবার বেলা ১২টার সময় মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। পৌর শহরের চৌমুহনী পয়েন্টে আশা মাত্রই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগসহ অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ধাওয়া করে।

পরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ধাওয়া করে পুরো শহর তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। ১২টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের দখলে ছিল পুরো শহর। শিক্ষার্থীরা চৌমুহনী পয়েন্টে জোহরের আজান ও নামাজ আদায় করেন। এসময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সাইন বোর্ড ভাঙচুর করে এবং সেন্ট্রাল রোড, কোর্ট রোড, শমসেরনগর রোড ও চাঁদনীঘাট রোডে আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা।

আরো জানা যায়, সকাল সাড়ে ১১ টার সময় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের একটি অংশ অবস্থান নেন শহরের বেড়িরপাড় এলাকায়। আরেকটি অংশ অবস্থান নেন চৌমুহনা এলাকায়। আর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেন শহরের আদালত সড়কে। এসময় পুরো সড়ক দখলে নেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। সময় বাড়ার সাথে সাথে সেখানে বিভিন্ন এলাকা থেকে জড়ো হতে থাকেন শতশত শিক্ষার্থী-সহ হাজারো জনতা। দুপুর সাড়ে ১২ টার সময় চৌমুহনায় অবস্থান নেওয়া আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে শুরু হয় প্রথমে সংঘর্ষ। এসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সড়কের পাশে অবস্থান নিলেও তাদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করতে দেখা যায়। দফায় দফায় চলা সংঘর্ষে পুরো এলাকা রূপ নেয় রণক্ষেত্রে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে পথচারীসহ সাধারণ মানুষ। ঘন্টার পর ঘন্টা থেমে থেমে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে। এসময় আন্দোলনকারীদের ধাওয়ায় চৌমুহনা থেকে পিছু হটে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে শিক্ষার্থীদের দখলে ছিল পুরো শহর।

বেলা ৩টার সময় পুলিশ টিয়ারশেল মেরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় পুলিশ শহরের সেন্ট্রাল রোড, কোর্ট রোড, শমসেরনগর রোড ও চাঁদনীঘাট রোডে ফাঁকা গুলি ছুড়ে। পুরো শহরে দোকান বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা। সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যা পর্যন্ত পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়ে।

সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের সময় মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে একটি মিছিল শহরের চৌমুহনী ও আশপাশ এলাকায় বিক্ষোভ করে।

মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ফয়ছল জামান বলেন, ৩৪ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ছয়জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) মোঃ মনজুর রহমান বলেন, শহরজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছেন। পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে জানান তিনি।



সম্পর্কিত খবর