সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে মোটরসাইকেল চালক ইকবালের মৃত্যু নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে।
ঈদের দিন বন্ধুর ফোনে ঘর থেকে বের হয়ে নিখোঁজের তিনদিন পর উপজেলার ভাটিপাড়া-পাথারিয়া সড়কে লাউরঞ্জণী সেতু সংলগ্ন সুমা নদী থেকে ইকবালের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। অক্ষত অবস্থায় একই স্থান থেকে উদ্ধার করা হয় ব্যবহৃত মোটরবাইক।
নিজ এলাকার ১৫ কিলোমিটার অদূরে কেন এসেছিলেন ইকবাল, কারা সাথে ছিলেন। কি কারনে নির্জন এলাকায় ইকবালকে নিয়ে আসা হয়, আর ইকবালের মৃত্যু দুর্ঘটনায় কারনে হয়েছে নাকি পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে এমন প্রশ্ন এখন জনে জনে। এই ঘটনায় আতাউর ও মইনুদ্দিন নামের ইকবালের দুই বন্ধুকে আটক করেছে দিরাই থানা পুলিশ। দুই দিন থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও রহস্যময় ঘটনায় এই দুইজনের সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা তা খোলাসা করছে না পুলিশ।
এদিকে ইকবালের পরিবারের দাবি পরিকল্পিতভাবেই ইকবালকে হত্যা করা হয়েছে আর এর সাথে আটককৃত বন্ধুরা জড়িত থাকতে পারে বলে দাবি তাদের।
জানা যায়, বৃস্পতিবার (৫ মে) দুপুরে উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের সুমা নদীর শাখা নদী লাউরানজানি ব্রিজের পাশ থেকে ইকবাল হোসেন (৩৫)-এর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে দিরাই থানা পুলিশ। ইকবাল পেশায় একজন মোটরবাইক চালক। সে দিরাই পৌরসভা এলাকার দাউদপুর গ্রামের বাসিন্দা।
নিহত ইকবাল হোসেনের স্ত্রী জেসমিন বেগমের কাছ থেকে জানা যায়, ঈদের দিন মঙ্গলবার (৩মে) দুপুরে বন্ধুর ফোন পেয়ে ঘর থেকে বের হন স্বামী ইকবাল হোসেন। শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া এলাকার কয়েকজন বন্ধুর সাথে দেখা করতে যাচ্ছেন বলে স্ত্রীকে জানিয়েছিলেন তিনি। এরপর থেকেই নিখোঁজ হন ইকবাল। বন্ধুদের সাথে দেখা করার কথা বলে এমনিভাবে ২-৩দিন ঘরের বাহিরে স্বামী থাকেন বলে জানান ইকবালের স্ত্রী জেসমিনের।
জেসমিন বলেন, আমার স্বামী গাঁজামদ সেবন করেন। প্রায় সময় ঘরের বাহিরে থাকেন। কোনো সময় মধ্যরাতে কোনো সময় ভোরে আসেন। তাঁর বন্ধুদের নিয়ে ফকির বাড়িতে (মাদকসেবনের আড্ডাখানা) সময় কাটান। পাথারিয়া এলাকার আতাউর ও মইনুদ্দিন তাঁর কাজের বন্ধু। যেদিন তিনি ঘর থেকে বের হন এইদিন তার মোবাইলে একনাগাড়ে ফোন আসছিল। তিনি গোসলে থাকায় আমি ফোন ধরি। একবার একজন মহিলা আর আরেকবার আরেকজন পুরুষ ফোন করছিলো। তারা বলছিলো জরুরী কাজ আছে ইকবালকে ফোন দিতে। ঘরে আসার পর তাঁকে ফোনকলের কথা জানাতেই তিনি তড়িগড়ি করে বের হয়ে যান। এরপর আর ঘরে আসেননি। তবে রাত ১২ টার আগ পর্যন্ত ইকবালের পরিবারের একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেসমিন।
ইকবালের ছোট ভাই নাইম বলেন, আমিসহ আমরা তিন ভাই মোটরবাইক চালিয়ে জীবিকা সংগ্রহ করি। ঈদের রাত আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। রাত সাড়ে ১২ টায় বড় ভাই(ইকবাল) আমাকে ফোন দিয়ে বলেন মোটরসাইকেল বাহিরে আছেনি। আমি কি কোনো যাত্রী বহন করতে পারবোনি। আমি না করায় তিনি ফোনকল কেটে দেন।
বড় বোন সেলেনা বলেন, রাত ১২ টার পরে আমি ইকবালকে ফোন দেই। জানতে চাই সে ঘরে আছেনি। সে বলে বন্ধুদের সাথে ভাটিপাড়ায় আছে। এর আধাঘন্ট পরে আরেকবার ফোন দিলে অন্য একজন ফোন রিসিভ করে আবুল থাবুল কথা বলে ফোনকল কেটে দেয়।
এদিকে ইকবাল নিখোঁজের সপ্তাহখানেক আগে মালেক(ইকবালের বন্ধু) নামে একজন বাড়িতে এসে ইকালের খোঁজ করে। বাড়িতে না পেয়ে দিরাই বাজারে গিয়ে ইকবালের সাথে এই লোক ঝগড়া করে বলে জানায় নিহত ইকবালের ছোট ভাই ইমরান। পরিবারের দাবি ইকবালকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার সাথে তাঁর বন্ধুরা জড়িত থাকতে পারে বলে দাবি তাদের।
এদিকে নিহত মোটরসাইকেলচালক ইকবাল হোসেন (৩৫) কে খুন করা হয়েছে এমন সন্দেহে শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া গ্রামের আলা উদ্দিনের ছেলে মইন উদ্দিন ওরফে ভান্ডারী (৩৫) ও আসামুড়া গ্রামের নয়াবআলী ছেলে আতাউর (৩৬) নামের দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।
আটককৃতরা মোটরসাইকেল চালক ইকবাল হোসেনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলে জানা যায়।
হত্যাকান্ডের সাথে এই দুইজন জড়িত কিনা এই বিষয়ে খোলাশা করছে না পুলিশ। তবে ঘটনা গুরুত্ব দিয়ে আটককৃত দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তদন্তের স্বার্থে অনেক কিছুই বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সাইফুল আলম।