নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার আমাদা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে তারুণ্যের মাদকবিরোধী প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ‘ফ্রেন্ডস অ্যান্ড কোম্পানি’র আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ খেলাকে কেন্দ্র করে আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষের মিলনমেলা ঘটে।
আমাদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি সালাউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আমাদা আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষ মো. আল ফয়সাল খান।
মাঠে বল গড়ানোর আগে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে খেলার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। ৭০ মিনিটের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের দ্বিতীয়ার্ধে গোপালগঞ্জের শিপন ফুটবল ট্রেনিং সেন্টার ১-০ গোলে খুলনার রূপক স্মৃতি ফুটবল একাডেমিকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। শনিবার সন্ধ্যায় বিজয়ী দলের হাতে চ্যাম্পিয়ন ট্রফিসহ সম্মানী অর্থ তুলে দেওয়া হয়। খেলায় ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ নির্বাচিত হন গোপালগঞ্জের গোলরক্ষক পলক।
এ সময় আয়োজক কমিটির জুবায়ের সিদ্দিকী রিফাত, সাহিদুর রহমান সাহেদ, রাসেল মাহমুদ, আবির মাহমুদ, সৈয়দ আল মামুন, মাজেদুল হক পরাগ, সুরুজ শেখ, শামীম শেখ, রাসেদ মাহমুদ, রুহুল আমিনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। খেলা পরিচালনায় ধারাভাষ্য দেন সাজেদুল হক সোহাগ এবং তাঁকে সহযোগিতা করেন জাহাঙ্গীর হোসেন। প্রীতি ম্যাচটিতে সার্বিক সহযোগিতা করে আমাদা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।
স্বাগতিক আমাদা ছাড়াও আশপাশের বয়রা, উলা, কুচিয়াবাড়ি, নোয়াপাড়া, ঝিকড়া ও কামালপ্রতাপসহ অন্তত ১০টি গ্রামের হাজারো দর্শক ম্যাচটি উপভোগ করেন। এছাড়া মাঠের বাইরে এড়েন্দা-লুটিয়া সড়কের আমাদা বাজার চত্বরে বসেছিল গ্রামীণ মেলা, যেখানে বিভিন্ন ধরনের খাবার ও অন্যান্য পণ্য কেনাবেচার ধুম পড়ে।
আয়োজক কমিটির প্রধান জুবায়ের সিদ্দিকী রিফাত বলেন, "তরুণদের সমন্বয়ে ২০১০ সালে ‘ফ্রেন্ডস অ্যান্ড কোম্পানি’র যাত্রা শুরু হয়। মাদকের আগ্রাসন থেকে সবাইকে দূরে রাখতেই আমরা এ ধরনের ফুটবল খেলার আয়োজন করেছি। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে। এছাড়া সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের সৃজনশীল কর্মকাণ্ড ও ভালো উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে চাই।"
আমাদা আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষ মো. আল ফয়সাল খান বলেন, "খেলাধুলা মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধুত্ব, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি গড়ে তোলে। বিশেষ করে মাদক ও নানা অপকর্ম থেকে সমাজকে মুক্ত রাখতে খেলাধুলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।"
অনুষ্ঠানের সভাপতি সালাউদ্দিন খান বলেন, "এই খেলার মধ্য দিয়ে বিভিন্ন গ্রামের মানুষের মিলনমেলা ঘটেছিল। এলাকার ক্রীড়াঙ্গনকে আরও এগিয়ে নিতে এ ধরনের আয়োজন তরুণ প্রজন্মকে শক্তি ও সাহস জোগাবে।"