রংপুর

পঞ্চগড়ে নিজের মেয়ের বাল্যবিয়ে দিলেন বড়শশী ইউনিয়নের কাজী মোজাম্মেল

পঞ্চগড়ে বাল্যবিয়ে বন্ধ না করে নিজের মেয়েকেই বাল্যবিয়ে দিলেন নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) মোজাম্মেল হক। তিনি বোদা উপজেলার বড়শশী ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত নিকাহ রেজিস্ট্রার। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বাল্যবিয়ে রেজিস্ট্রেশন করাতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বাল্যবিয়ে রেজিস্ট্রেশন করার পরও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।

বাল্যবিয়ে দেওয়া কাজী মোজাম্মেল হকের মেয়ের নাম আফরিন জাহান মাছুমা। সে বোদা উপজেলার বড়শশী ইউনিয়নের বড়শশী বিএল বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। মানবিক বিভাগের এ শিক্ষার্থীর রোল নম্বর ২৪। বিদ্যালয়ের ভর্তি রেজিস্টার অনুযায়ী তার জন্মতারিখ ১৫ নভেম্বর ২০১০। সে হিসাবে তার বয়স হয় ১৫ বছর ১১ মাস ১০ দিন।

মেয়ের বাবা ওই ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার মোজাম্মেল হক বলেন, “আমার মেয়ে আর ওই ছেলে দীর্ঘদিন ধরে একে অপরের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। অনেক বোঝানোর পরও তারা বিয়ে করার সিদ্ধান্তে অটল ছিল। বিয়ে না হলে তারা আত্মহত্যা করার হুমকি দেয়। পরে বাধ্য হয়ে তাদের বিয়ে রেজিস্ট্রেশন না করে ইমাম দিয়ে বিয়ে পড়ানো হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, বড়শশী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের পরামর্শেই তিনি বাল্যবিয়ে দিয়েছেন।

শিক্ষার্থী মাছুমা ৩০ সেপ্টেম্বর সর্বশেষ বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিল। ১ অক্টোবর থেকে সে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছে।

বোদা উপজেলার বড়শশী বিএল বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সফিউল আলম বলেন, “আমরা সব সময় বাল্যবিয়ের বিপক্ষে। নবম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীর বিয়ের বিষয়টি পরদিন আমরা জেনেছি। শুনেছি ওই ছাত্রী নাকি প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে এক ছেলের বাড়িতে গিয়ে উঠেছিল। তারপর দুই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তাদের বিয়ে দেওয়া হয়।” তিনি আরও বলেন, গত ছয় মাসে এই বিদ্যালয়ের নবম-দশম শ্রেণির প্রায় ৬-৭ জন ছাত্রীর বিয়ে হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে একসময় বিদ্যালয়টি শিক্ষার্থীসংকটে পড়বে।



সম্পর্কিত খবর