রংপুর

পঞ্চগড়ে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগে ১২ ইউপি সদস্যের অনাস্থা প্রস্তাব

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরদিঘী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জামায়াতে ইসলামীর বহিষ্কৃত উপজেলা সম্পাদক আব্দুল হালিমের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

১৯ আগস্ট বুধবার সকালে ইউপি সদস্যরা একত্রিত হয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেন।

ইউপি সদস্য ও সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্যদের দেওয়া অনাস্থা প্রস্তাব থেকে জানা যায়, সুন্দরদিঘী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হালিমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি ও অর্থ আত্মসাৎসহ নানা কারণে ওই ইউনিয়নের ১২ জন ইউপি সদস্য ও সদস্যা অনাস্থা প্রস্তাব আনেন।

এর আগে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে আহ্বায়ক করে ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় সব ইউপি সদস্যের সর্বসম্মতিক্রমে চেয়ারম্যান আব্দুল হালিমের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অনাস্থা প্রস্তাবটি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হওয়ার পর রেজুলেশনকৃত অনাস্থা প্রস্তাবে সব ইউপি সদস্য স্বাক্ষর করেন।

ইউপি সদস্যরা জানান, "অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি করা চেয়ারম্যান আব্দুল হালিমের সঙ্গে কাজ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। সাধারণ জনগণের ভোগান্তি এবং তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারে আমরা পরিষদের সদস্যবৃন্দসহ ইউনিয়নের সাধারণ জনগণ অতিষ্ঠ। অনাস্থাধীন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবটি গ্রহণ করার জন্য এবং তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।"

চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম দেবীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নারীঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

অনাস্থা প্রস্তাবে স্বাক্ষর করা ইউপি সদস্য ও সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের সদস্যরা হলেন— ফেরদৌসী বেগম, শিল্পী বেগম, আরতী রানী, নূর ইসলাম, সহিদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, খলিলুর রহমান, সম্রাট অশোক প্রধান, আব্দুল হাকিম, হিতেন চন্দ্র রায়, নবেল মিয়া ও রবিউল ইসলাম।

ইউপি সদস্য সহিদুল ইসলাম বলেন, "চেয়ারম্যানের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে আমরা তাঁর প্রতি অনাস্থা এনেছি।"

সুন্দরদিঘী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, "চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রতিটি কাজে অনিয়ম করেছেন। প্রতিটি উন্নয়নমূলক কাজ থেকে কমিশন নেন। স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি করেছেন। তাঁর অপকর্মের প্রতিবাদেই আমরা সব সদস্য অনাস্থা প্রকাশ করেছি।"

অনাস্থা প্রস্তাবের অনুলিপি দেওয়া হয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী, পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসকের কাছে।

সুন্দরদিঘী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম বলেন, "আমি কোনো দুর্নীতি করিনি, স্বজনপ্রীতিও করিনি। গোটা ইউনিয়নের লোক তা জানে। তাঁরা অভিযোগ দিতে থাকুক, দেখি কি হয়।"

দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীত সাহা জানান, পরিষদের রেজুলেশনসহ সব কাগজপত্র দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 


সম্পর্কিত খবর