জাতীয়

পিলখানা হত্যাকাণ্ড: জাতীয় স্বাধীন কমিশন গঠনে সরকারের উদ্যোগ

ছবি: সংগৃহীত

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক ভয়াবহ ও মর্মান্তিক দিন। সেদিন ঢাকার পিলখানায় তৎকালীন সীমান্তরক্ষী বাহিনী বাংলাদেশ রাইফেলসের (বিডিআর) সদর দপ্তরে একটি বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। সেই বিদ্রোহে নির্মমভাবে প্রাণ হারান ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা, যা জাতির জন্য এক গভীর ক্ষত। এই ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় জাতীয় স্বাধীন কমিশন গঠন করেছে সরকার।

সোমবার (২ ডিসেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের নেতৃত্বাধীন একটি বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষ জানায় যে, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের জন্য একটি জাতীয় স্বাধীন কমিশন গঠন করা হয়েছে। তবে আদালত কমিশনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উপস্থাপন না করায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং কমিশন সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য আদালতে পেশ করার নির্দেশ দিয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে আদালতে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তানিম খান এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন।

জাতীয় স্বাধীন কমিশন গঠনের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. তানভীর আহমেদ এবং বিপ্লব কুমার পোদ্দার গত মাসে হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থে রিট দায়ের করেন। রিটে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সত্য উদ্‌ঘাটনে কমিশন গঠনের পাশাপাশি ২৫ ফেব্রুয়ারিকে “শহীদ সেনা দিবস” হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তাব করা হয়।

হাইকোর্ট গত ৬ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয় এবং একই সঙ্গে রুল জারি করে জানতে চায়,

জাতীয় স্বাধীন কমিশন গঠনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি হবে না?

কমিশন গঠনের নির্দেশ কেন দেয়া হবে না?

২৫ ফেব্রুয়ারি "শহীদ সেনা দিবস" হিসেবে ঘোষণা করার নির্দেশ কেন দেয়া হবে না?

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি দেশের সেনাবাহিনী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং জাতির সাধারণ মানুষের মনে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে। এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধ, দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিতকরণ এবং সত্য প্রকাশের মাধ্যমে জনগণের আস্থা ফেরানো একান্ত জরুরি।

জাতীয় স্বাধীন কমিশনের মাধ্যমে বিদ্রোহের প্রকৃত কারণ, পরিকল্পনা এবং দায়ীদের ভূমিকা স্পষ্ট হবে। পাশাপাশি, এমন ঘটনার পেছনে জাতীয় বা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র থাকলে তা উদ্‌ঘাটন করে ভবিষ্যতে সুরক্ষিত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

২০০৯ সালের এই দিনটি সেনাবাহিনীর জন্য এক শোকাবহ দিন। রিটে ২৫ ফেব্রুয়ারিকে "শহীদ সেনা দিবস" হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি এসেছে। এটি শুধুমাত্র নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নয়, বরং জাতীয়ভাবে তাদের আত্মত্যাগ স্মরণ করার একটি উদ্যোগ।

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি এখনও জাতির জন্য বেদনার। সরকারের এই উদ্যোগ সত্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। তবে এ কমিশনের কার্যক্রম সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হতে হবে। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী কমিশনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ এবং কার্যক্রমে জনগণের আস্থা অর্জন করা এখন সরকারের দায়িত্ব।

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটন ও বিচার নিশ্চিত করতে জাতীয় স্বাধীন কমিশনের কার্যকর ভূমিকা জাতির জন্য এক নতুন আশার আলো হয়ে উঠতে পারে।

বায়ান্ন/এএস/একে

 



সম্পর্কিত খবর