চট্টগ্রাম প্রতিদিন

পুলিশ দেখেও মামলা নেয়নি দাবি শাহেদের, আদালতে মামলা

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের হালিশহর থানার পোর্ট কানেকটিং রোডে অবস্থিত 'দূরন্ত বাজার সুপারশপ' নামে একটি প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাটসহ প্রতিষ্ঠানটির মালিক নুর মোহাম্মদ শাহেদ (২২)-কে একাধিকবার নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত সোমবার (১৬ জুন, ২০২৫) ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী শাহেদ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এতে ২৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং ১২০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিটকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর ও বাদীর আইনজীবী আবুল মনছুর সিকদার, যিনি জানান, আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

 

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত বুধবার (৪ জুন, ২০২৫) দুপুর ২টা থেকে বৃহস্পতিবার (৫ জুন, ২০২৫) রাত ১০টা পর্যন্ত একটানা শাহেদকে তার অফিসে আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এ সময় তার অফিসে থাকা বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী ও ব্যক্তিগত মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যাওয়া হয়, যার ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৩ কোটি টাকারও বেশি।

 

শাহেদের অভিযোগে আরও বলা হয়, দুরন্ত বাজার সুপারশপের বয়স ৪ বছর এবং এটি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠেছে। হামলাকারীরা শুধু হামলা করেই নীরব ছিল না, তারা সুপারশপের ক্যাশ ভেঙে ১,৮৮,০০০ টাকা, মানিব্যাগ থেকে ৫৮ হাজার টাকা এবং ঈদ বোনাস ও বেতন দেওয়ার জন্য অফিস কক্ষে থাকা একটি ব্যাগে রাখা ২৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকাও ছিনিয়ে নিয়ে যায়। শাহেদের হাতে থাকা ১ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা মূল্যের স্যামসাং গ্যালাক্সি মোবাইলটিও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তার মানিব্যাগে থাকা ব্যাংকের ডেবিট কার্ডও ছিনিয়ে নিয়ে এটিএম বুথে গিয়ে এক ও ছয় নম্বর আসামি ২ লাখ টাকা করে ৪ লাখ টাকা তুলে নেয়। দুরন্ত বাজার সুপারশপ থেকে আড়াই কোটি টাকার মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায় এবং সুপারশপের ভেতরে ৯০ হাজার টাকার মালামাল ভাঙচুর করে। শুধু তাই নয়, শাহেদের বাসায় গিয়ে আলমারি ভেঙে ৩ ভরি স্বর্ণালংকার ও আড়াই লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। আলমারিতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র জোরপূর্বক নিয়ে নেয় এবং ব্যাংক লেনদেন করে অর্থ স্থানান্তর করে। এ সময় তাকে জোর করে চেকবই, ব্যবসায়িক স্ট্যাম্প ও প্যাডে স্বাক্ষর করানো হয়। মারধরের সময় ফেসবুক লাইভে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ণ করা হয়।

 

শাহেদের দাবি, জরুরি নিরাপত্তার জন্য সরকারি ৯৯৯-এ কল করলেও হালিশহর থানা পুলিশ সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি, বরং পরিস্থিতি ঘোলাটে করে হামলাকারীদের সঙ্গে সমন্বয় করে তাকে ফের তাদের হাতে তুলে দেয়। ঘটনার পর শাহেদ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন এবং হালিশহর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ বিষয়টি আমলে না নিয়ে শাহেদকে দীর্ঘদিন ঘোরানো হয়। পরে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন।

 

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল মনছুর সিকদার (সোহেল) বলেন, "থানায় মামলা না নেওয়ায় আমার মক্কেল ভুক্তভোগী আদালতে মামলা করেছেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।"

 

হালিশহর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামানকে দূরন্ত বাজার সুপারশপে ভাঙচুর, লুটপাট এবং শাহেদকে মারধরের ঘটনা (৪ জুন) এবং কেন থানায় মামলা নেওয়া হয়নি—এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি উত্তর না দিয়ে ব্যক্তিগত মন্তব্য করেন। তিনি জানান, শাহেদের কাছে দেড় হাজার লোক ১০ লক্ষ টাকা থেকে দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত পাবে, তাই সে নিজ এলাকায় না গিয়ে ধামাচাপা দিয়ে থাকে। তিনি আরও বলেন, ৪ জুন পুলিশ এবং সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল, পাওনাদারদের টাকা-পয়সা ভাগ করে দেওয়া হয় এবং কিছু মালামালও ভাগ করে দেওয়া হয়; বাকি টাকা নেওয়ার জন্য সময় দেওয়া হয়েছে।



সম্পর্কিত খবর