খবর প্রতিদিন

প্রতিমন্ত্রী শফিক চৌধুরীর কাছে বঞ্চিত ওসমানীনগর ও বিশ^নাথবাসীর প্রাণের দাবি

ওসমানীনগর ও বিশ^নাথ উপজেলা নিয়ে সিলেট-২ আসন। এই আসনে গত ১০ বছর ধরে শাসকদলের সংসদ সদস্য ছিলেন না। একবার জাতীয় পার্টির এবং আরেকবার গণফোরামের সংসদ সদস্য ছিলেন। এই অবস্থায় উন্নয়নসহ নানান দাবি আদায়ে বঞ্চিত হয়েছেন এলাকার মানুষ। ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে এই আসন থেকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শফিকুর রহমান চৌধুরী বিজয়ী হন। ১০ জানুয়ারি প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বপ্রাপ্ত হন শেখ হাসিনার আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত শফিকুর রহমান চৌধুরী। এর পর থেকে ওই নির্বাচনী এলাকা আনন্দে ভাসছে। বঞ্চিত এলাকাবাসী তাদের প্রিয় নেতার কাছে দাবি দাওয়া তুলে ধরছেন বিভিন্নভাবে। দাবি পূরণ করে এলাকাবাসীকে বঞ্চনা থেকে মুক্ত করবেন বলে অনেকেই আশা করছেন। এলাকার দাবি দাওয়া নিয়ে কথা হয় ওসমানীনগর ও বিশ^নাথের বিভিন্নজনের সাথে। তারা স্বপ্ন দেখছেন শফিক চৌধুরীকে নিয়ে। তিনিই এলাকাবাসীর দাবি দাওয়া আদায়ে আন্তরিক হবেন-এমনটা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতারাও। তাঁরা দৈনিক বায়ান্নের কাছে তুলে ধরেছেন বিভিন্ন দাবির কথা।

 

ওসমানীনগর ও বিশ^নাথ উপজেলার মধ্যবর্তী স্থানে একটি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এডভোকেট মসাহিদ আলী। বিশ^নাথের কৃতি সন্তান মসাহিদ আলী সিলেট জেলা জজকোর্টের স্পেশাল পিপি। মেডিকেল কলেজ স্থাপনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে এডভোকেট মসাহিদ আলী বলেন, সিলেটের বিশাল জনগোষ্ঠির জন্যে মাত্র একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রয়েছে। এই হাসপাতালে সিটের চেয়ে রোগী ভর্তি থাকে দ্বিগুন। বঙ্গমাতা মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় আছে। কিন্তু এখনো এই বিশ^বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালু হয়নি। চালু হওয়ার পরও রোগীর চাপ কোনোভাবেই কমবে না। বলতে গেলে সিলেটের ৯০ ভাগ রোগীই প্রাইভেট হাসপাতালের চিকিৎসার উপর নির্ভর। প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ রোগীদেরকেও প্রাইভেট চিকিৎসার উপর ভরসা করতে হয়। এই অবস্থার পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন। এজন্য দরকার আরো একটি মেডিক্যাল কলেজ। আর এই মেডিকেল কলেজটি ভৌগলিক কারণে বিশ^নাথ ও উসমানীনগরের মধ্যবর্তী স্থানে স্থাপন করলে বিশাল জনগোষ্ঠি স্বাস্থ্যসেবা পাবেন। এছাড়া এই মেডিকেল থেকে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক চিকিৎসক সৃষ্টি হবে। প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরীর কাছে এলাকার সাধারণ মানুষের দাবি ওই বিষয়ে তিনি বিশেষ পদক্ষেপ নেবেন। বিশ^নাথে একটি টেকনিক্যাল কলেজ স্থাপনেরও দাবি জানান তিনি।

 

এডভোকেট মসাহিদ আলী বলেন, দুইটি উপজেলার স্বাস্থ্যসেবা বিশেষ করে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা নাজুক অবস্থায় রয়েছে। এই দুইটি উপজেলার স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো বলতে গেলে নিজেরাই রোগী হয়ে গেছে। ফলে এসব স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া অনেকা স্বপ্নের ন্যায়। এই অবস্থায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো সাজিয়ে তোলা প্রয়োজন। এছাড়া অনেক ইউনিয়নে কমিউনিটি ক্লিনিক নেই। সব ইউনিয়নে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করে তা কার্যকর করে তুলতে দাবি জানিয়েছেন তিনি।

 

এডভোকেট মসাহিদ আলী বলেন, প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী বিশ^নাথ ও উসমানীনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-২ আসনের এমপি। এই দুইটি উপজেলার সব কিছুই তাঁর নখদর্পনে। গত ১০ বছরে এই এলাকার মানুষ নানানভাবে বঞ্চনার শিকার হয়েছে। দুইটি উপজেলার সবকটি রাস্তার অবস্থা বেহাল। যা সাধারণ মানুষের জন্যে দুর্গতির কারণে পরিণত হয়েছে। উপজেলা দুটির সকল রাস্তা অবিলম্বে সংস্কার করতে প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।

 

তিনি জানান, দুইটি উপজেলার বিপুল সংখ্যক নাগরিক বসবাস করেন বিশে^র বিভিন্ন দেশে। তাঁদের রেখে যাওয়া বিপুল পরিমাণ জমি বছরের পর বছর অনাবাদী থেকে যায়। বিশেষ পরিকল্পনায় ওই জমি চাষাবাদের আওতায় আনার জন্যে দাবি জানান এডভোকেট মসাহিদ আলী। এই দুই উপজেলায় রয়েছে অনেক নদী ও খাল। যা ভরাট হয়ে মরা নদী আর খালে পরিণত হয়েছে। এসব নদী আর খাল জরুরি ভিত্তিতে খনন করা প্রয়োজন। নদী-খাল খনন হলে কৃষি জমিতে জলাবদ্ধতা থাকবে না। শুষ্ক মৌসমেও নদী ও খালে পানি থাকবে। এই পানি চাষাবাদে ব্যবহার করা যাবে। দুইটি উপজেলার বেকার জনগোষ্ঠীকে আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলতে এলাকায় ব্যাপকভাবে কৃষি ভিত্তিক খামার প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। মৎস্য, খামার, পোল্ট্রি খামার, গরু ছাগলের খামার সহজেই গড়ে তোলা সম্ভব হবে সহজ শর্তে কৃষি ঋণের ব্যবস্থা করলে।

 

তিনি বলেন, এই এলাকার শিক্ষা বিস্তারে নজর দেওয়া প্রয়োজন। যেসব হাইস্কুল এমপিও ভুক্ত নয়, সেসব হাইস্কুলকে এমপিও ভুক্ত করা প্রয়োজন। দুইটি উপজেলায় পর্যাপ্ত কলেজ নেই। কলেজ সংখ্যা বৃদ্ধি করে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে গতিশীল করা জরুরি। তিনি বলেন, এসব দাবি এলাকার সর্বস্তরের মানুষের।

 

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের দাবি তুলে ধরেছেন আওয়ামী লীগ নেতা ও ওসমানীনগর উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাহেদ আহমদ ভিপি মুছা। তিনি বলেন প্রবাসী অধ্যূষিত এই এলাকা গত ১০ বছর ধরে বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছে। যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক ধরণের বিপর্যয় বিরাজ করছে। উপজেলার প্রতিটি রাস্তাঘাট চলাচলে অনুপযোগি হয় পড়েছে। একজন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হিসেবে নিজ এলাকার চিত্র তুলে ধরে ভিপি মুছা বলেন, দুর্ভোগের শিকার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অনেক কটুক্তি শুনতে হয়। তবে এই অবস্থা কেটে যাবে রাস্তাঘাটগুলো সংস্কার হলে।

 

সাহেদ আহমদ বলেন, স্বাস্থ্য খাতে নাজুক অবস্থা বিরাজ করছে। স্বাস্থ্য কেন্দ্রে তীব্র জনবল সংকট বিরাজ করছে। ফলে সাধারণেরা কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন না। উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের পরিবার পরিকল্পনা মা ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং কমিউনিটি ক্লিনিগুলোর অবস্থা কোনোভাবেই ভালো নেই। এসব স্¦াস্থ্য কেন্দ্র ঢেলে সাজানোর দাবি জানান তিনি। ওসমানীনগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রকে ভিত্তি করে এখানে নার্সিং ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠার দাবিও করেছেন সাহেদ আহমদ।  

 

সাহেদ আহমদ বলেন, এই উপজেলায় শিক্ষা ব্যবস্থা ভালো আছে, তা বলা যাবে না। কারিগরি শিক্ষায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে এই অঞ্চল। এই অঞ্চলকে কারিগরি শিক্ষয় এগিয়ে নিতে হবে। এজন্যে এই উপজেলায় টেকনিক্যাল কলেজ ও কারিগরি স্কুল স্থাপন প্রয়োজন। কারিগরি শিক্ষায় দজ্ঞ হয়ে এই এলাকার যুবকেরা প্রবাসে গেলে তুলনামূলকভাবে আয় বেশি করতে পারবেন। সাধারণ শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে স্কুল কলেজগুলোকে ঢেলে সাজানো প্রয়োজন। এই উপজেলা সরকারি হাইস্কুল ও কলেজ নেই। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখার জন্যে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরীর কাছে দাবি করেছেন সাহেদ আহমদ।

 

ভিপি মুছা বলেন, ওসমানীনগর উপজেলার বিপুল সংখ্যক নাগরিক বসবাস করেন প্রবাসে। প্রতি বছরই তাঁরা বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণ করেন দেশে। এসব প্রবাসী প্রায় সময় বিভিন্ন আলোচনায় দাবি তোলেন ওসমানীনগর উপজেলায় পৌরসভা গঠনের। এই দাবিটি অত্যন্ত যৌক্তিক। প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরীর কাছে এই দাবিটি তুলে ধরে সাহেদ আহমদ বলেন পৌরসভা বাস্তবায়ন হলে এই এলাকার ব্যবসা বাণিজ্য অনেক এগিয়ে যাবে।

 

ওসমানীনগর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহসভাপতি দিবাংশু পাল জানান, এই উপজেলার শেরপুর হচ্ছে সিলেট জেলায় প্রবেশমুখ। কুশিয়ারা নদী পাড়ি দিয়ে প্রবেশ করতে হয় সিলেট জেলায়। স্বাভাবিকভাবে এই বিশ^রোড হয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন সিলেট জেলায় প্রবেশ করে এবং সিলেট জেলা থেকে বের হয়ে যায়। এই শেরপুরে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল স্থাপেনর দাবি জানিয়েছেন তিনি।

 



সম্পর্কিত খবর