জাতীয়

প্রবাসীদের জন্য প্রক্সি ভোটিং নিয়ে ভাবছে কমিশন: ইসি সানাউল্লাহ

বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য প্রক্সি ভোটিং নিয়ে ভাবছে নির্বাচন কমিশন। পোস্টাল ব্যালটে প্রবাসীদের ভোট দেওয়ার বিধান থাকলেও তা মোটেও বাস্তবায়ন হয় না দেখে প্রক্সি ভোটিং নিয়েই বেশি ভাবছে কমিশন বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। 

তিনি বলেন, এপ্রিলের প্রথমার্ধে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে ওয়ার্কশপের পর রাজনৈতিক দলসহ অংশীজনদের নিয়ে বসবে নির্বাচন কমিশন।তবে, সব কিছু নির্ভর করবে দলসহ অংশীজনের সম্মতির উপর যোগ করেন তিনি। 

মঙ্গলবার (১১ মার্চ) রাজধানীর নির্বাচন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।  

নির্বাচন কমিশন বলছে, তারা পোস্টাল ব্যালট ( বাস্তবায়নযোগ্য সময় দিয়ে) অনলাইন ভোটিং এবং প্রক্সি ভোটিং এ-ই তিনটি পদ্ধতি নিয়েই বিস্তার আলোচনা ও পর্যালোচনা করছে কমিশন। 

আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, তিন পদ্ধতির মধ্যে প্রথম দুটি পদ্ধতি (পোস্টাল ব্যালট, অনলাইন) ট্রায়ালের জন্য সাজেস্ট করেছে। এটাকে ডেভেলপ করে টেস্ট করে দেখা যায় কোনটি বাস্তবায়ন করা যায়।

 এরপর রাজনৈতিক দলসহ অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। সবার সম্মতি পেলে এবং সিস্টেম ডেভেলপ করা সম্ভব হবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ছোট পরিসরে চালু করা হবে প্রক্সি ভোট।

পোস্টাল ব্যালট ও অনলাইন পদ্ধতির পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানোর পাশাপাশি আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রক্সি ভোটের সুপারিশ করেছে ইসি সচিবালয়ের এ সংক্রান্ত কমিটি। সোমবার নির্বাচন কমিশনের সামনে এ বিষয়ে একপটি প্রেজেন্টেশনও করা হয়। তাতে প্রক্সি ভোটের বিষয়ে ওয়ার্কশপ করার বিষয়ে পুরো কমিশন অনুমোদন করেছে।

প্রক্সি ভোটের বিষয়ে ইসির অবস্থান তুলে ধরে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন (প্রক্সি ভোট)এটিই একমাত্র পদ্ধতি ন্যূনতম ইন্টারভেনশনের সময়ের মধ্যে করা সম্ভব । কমিটি যে রোডম্যাপ সাজেস্ট করেছে এবং কমিশন গতকাল এপ্রুভড করেছে- তিনটি পদ্ধতি নিয়ে একটা ওয়ার্কশপ করা হবে এ প্রস্তাবনার উপরে। ৭-৮ এপ্রিলের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্টটিউটের বিশেষজ্ঞরা অংশ নেবেন তাতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, এমআইএসটি, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিটির বিশেষজ্ঞ ও বেসরকারি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানদের বিশেষজ্ঞদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।

তিনি জানান, মধ্য এপ্রিলের মধ্যে তিনটির পদ্ধতির একটি আর্কিটেকচার ডেভেলপ হয়ে গেলে তারপরই অংশীজনের সঙ্গে বসবে ইসি।

এরপর রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করতে চাই। সেখানে যদি সর্বসম্মতভাবে এটা গ্রহণযোগ্য হচ্ছে তখন সিস্টেম ডেভেলপমেন্টে যাবো। যে কোনো সিস্টেম ডেভেলপের পর টেস্টিং ও অডিটিংয়ের মাধ্যমে যেতে হবে। এটার লিগ্যাল প্রেমওয়ার্ক মডিফাই করতে হবে, বর্তমান আইনের পরিবর্তন করতে হবে। ফাইনালি ট্রায়াল রানে যেতে হবে। বলেন এ নির্বাচন কমিশনার।

দলসহ অংশীজন ঐকমত্য হলে তা চালু করা যাবে বলে জানান নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

তিনি বলেন,আমরা আশা করছি, এ ধাপগুলো অনুসরণ করে প্রক্সি ভোট টাকে (এগিয়ে নেওয়া হবে)। এখানে সবার সম্মতির ব্যাপার রয়েছে। সিস্টেম ডেভেলপের বিষয় রয়েছে। এগুলো করতে পারি তাহলে তাহলে ইনশাহ আল্লাহ আগামী নির্বাচনে প্রক্সি ভোটটা মোটামুটি একটা পরিসরে (চালু করা যাবে), আর বাকিগুলো ট্রায়াল ফেইজে ইমপ্লিমেন্ট করতে পারবো বলে আমাদের ধারণা।

ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার সেনাবাহিনীর জন্য প্রক্সি ভোটিং পদ্ধতি চালু আছে। তবে, বাংলাদেশেরমতো নড়বড়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এটা প্রক্সি ভোটিং পদ্ধতি চালু করলে তা র গোপনীয়তা রক্ষা থাকবে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমাদের কাউকে না কাউকে বিশ্বাস করতে বলে মনে করছেন তিনি। 

বিদ্যমান বাস্তবতায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য পোস্টাল ব্যালট কাযকরী নয় বলে মন্তব্য করেন এ নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, আমাদের কমিটির ফাইন্ডিং হচ্ছে- বর্তমানে প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ব্যালট) এটি একটি অচল সিস্টেম। যে সময়ে প্রতীক বরাদ্দের পরে ব্যালট পেপার ছাপনো হয়, তখন থেকে ভোটের ১০-১২ সময় থাকে। প্রবাসীদের জন্য বিদেশ থেকে এটি করতে হলে পোসাটাল ব্যালটে ২৪-৪০ দিন সময় লাগে। তাই এটা চলবে না, এর বিকল্প বের করতে হবে।

তিনি জানান, গত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে দেখেছি একটি ভোটও প্রবাসীদের জন্য কাস্ট হয় নি। দেশে ৪৩৩টি পোস্টাল ব্যালট কাস্ট হয়েছে। প্রবাসী ছাড়াও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারি, ভোটের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা, আইন শৃঙ্খলাবাহিনী, আইনি হেফাজতে থাকা ভোটারদের জন্য পোস্টাল ব্যালেটর বিধান রয়েছে।

এ নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে ইসির একটি কমিটি রয়েছে। এছাড়া ইসি সচিবালয়ের আইসিটি ও প্রবাসী শাখার কর্মকর্তাদের নিয়ে আরেকটি কমিটি রয়েছে, যারা প্রবাসীদের বিষয়ে ভোট পদ্ধতির সুপারিশ করবে।

এ কমিটি আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রক্সি ভোট পদ্ধতির বিষয়ে সাজেস্ট করেছে।

আর আগামী নির্বাচনের জন্য তারা সাজেস্ট করেছে যদি সত্যিকার অর্থে আমাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে হয় এবং প্রধান উপদেষ্টা যেভাবে বলেছেন সেভাবে প্রবাসীদের প্রত্যাশা পূরণ করতে চাই তাহলে আমাদের প্রক্সি ভোটিংয়ে যেতে হবে।

এ নির্বাচন কমিশনার জানান, প্রক্সি ভোটের পক্ষে কমিটির যুক্তি হচ্ছে- বিশ্বে বিভিন্ন জায়গায় এটি প্রচলিত, পাওয়ার অব এটর্নির মাধ্যমে জমি জমা বিক্রির মতো ভোটের অধিকারেও তা বাস্তবায়নযোগ্য। দেশে বর্তমানে আরেকজনের সহায়তা নিয়ে ভোটের বিধান রয়েছে, বিশেষ করে শারিরীক প্রতিবন্ধী ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে। একজনের হয়ে আরেকজন ভোট দিয়ে দেয়। কমিটি এটিকে সবচেয়ে উপযুক্ত পদ্ধতি বলে সুপারিশ করেছে।



সম্পর্কিত খবর