বিনোদন

প্রেম যুক্তি মানে না, সময়ও মানে না : আরিফিন শুভ

বছরচারেকের অপেক্ষা, দফায় দফায় শুটিং, আর নির্মাণ-বিতর্কে ঘেরা দীর্ঘ পথ পেরিয়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখতে চলেছে রায়হান রাফি পরিচালিত ‘নূর’। তবে প্রেক্ষাগৃহে নয়, আগামীকাল ১১ ডিসেম্বর ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাচ্ছে সিনেমাটি। মুক্তি জটিলতা, বিতর্ক, গুঞ্জন, প্রেম ও ব্যক্তিজীবনের অনালোচিত বিষয় নিয়ে ছবিটির নায়ক আরিফিন শুভর সঙ্গে কথা বলেছেন ইমরুল নূর।  কয়েক বছর ধরেই ‘নূর’ সিনেমাটির মুক্তি নিয়ে জল্পনা চলছিল।

 

 

প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি না দিয়ে হঠাৎ ওটিটিতে দেওয়ার কারণ কী?  

‘নূর’ কোথায় মুক্তি পাবে—এই সিদ্ধান্ত আসলে আমার হাতে নেই। আমি এই প্রজেক্টে শুধু অভিনয় করেছি। সিনেমাটির প্রযোজক পরিবর্তন হয়েছে একাধিকবার, সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন সহপ্রযোজকেরাও। ফলে মুক্তির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন পুরোপুরি তাঁদের।

 

 

আমার চাওয়া ছিল—‘নূর’ যেভাবেই হোক, মুক্তি পাক এবং দর্শকের কাছে পৌঁছাক। আজকাল বড় বড় ইন্ডাস্ট্রিতেও অনেক কাজ সরাসরি ওটিটিতে মুক্তি পাচ্ছে। ‘নূর’ অবশেষে দর্শক দেখতে পারবে—এটাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

 

সমসাময়িক অনেক গল্পই দর্শক গ্রহণ করেন না।

 

 

সেখানে চার বছর আগের এই ছবিটি এখন দর্শক কতটা গ্রহণ করবে বলে মনে করেন? 

‘নূর’ কোনো নির্দিষ্ট সময়ের গল্প না। এটা এক উপশহরের এক পাগল প্রেমিকের গল্প—যে প্রেম যুক্তি মানে না, সময়ও মানে না। আমাদের প্রতিটা এলাকা, প্রতিটা প্রজন্মেই এমন প্রেমিক থাকে। আপনার বাবার সময়েও প্রেমিক যেমন পাগলামি করেছে, আপনার সময়েও একই রকম ছিল। তাই আমি মনে করি ‘নূর’কে দর্শক সময় ধরে বিচার করবে না। এটা এক মানুষের অনুভূতির গল্প—আর মানুষের অনুভূতি কখনো পুরনো হয় না।

 

ছবিটিতে কাজ করতে গিয়ে নতুন কি কি অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে? এই ছবিটি করতে গিয়ে আপনার জন্য লেসন হিসেবে পেয়েছেন, এরকম কোনো একটি বিষয় শেয়ার করবেন... 

 

আমাকে দেখা যাবে এক পাগল প্রেমিকের চরিত্রে—যে খুবই সহজ-সরল, খানিকটা বোকাশোকা, কিন্তু প্রেমিকার জন্য সবকিছু করতে পারে। এই চরিত্রের সবচেয়ে বড় দিক ছিল তার ভেতরের ভাঙাচোরা আবেগকে সত্যিকারের করে ফুটিয়ে তোলা। এই কাজের জন্য সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং ছিল আমার লুক। চরিত্রের প্রয়োজনে আমাকে অনস্ক্রিন চুল ফেলতে হয়েছে। এরপর অনেক দিন টাক মাথায় শুটিং করতে হয়েছে, মানুষের সামনে ঘুরতে হয়েছে—এটা আমার জন্য পুরোপুরি নতুন অভিজ্ঞতা।

 

সবচেয়ে বড় লেসন? একটা চরিত্রে সত্যিকারে ঢুকতে চাইলে নিজের আরামের জায়গা ভাঙতেই হয়। ‘নূর’ আমাকে সেটা আরো গভীরভাবে শিখিয়েছে।

 

অন স্ক্রিন নিজের চুল ফেলে দিলেন ঠিক কি কারণে?

 

আমার মনে হয়েছে, গল্প এটা ডিমান্ড করে। অনেক সময় শিল্পীরা চুল না ফেলে নানা কৌশল ব্যবহার করেন, আমাকেও সেটা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ‘নূর’-এর ক্ষেত্রে সেটা করলে সত্যিটা ঠিকভাবে আসত না। চরিত্রটাকে পুরোপুরি সত্যিকার করতে হলে বাস্তব পরিবর্তন জরুরি ছিল। তাই আমি সরাসরি নিজের চুল ফেলে দিয়েছি। এটা শুধু লুকের জন্য নয়—চরিত্রের মানসিক ভাঙনটাও যেন আরো গভীরভাবে অনুভব করা যায়। আমার বিশ্বাস, এতে গল্পে একটা ভিন্ন মাত্রা যোগ হয়েছে।

 



সম্পর্কিত খবর