জাতীয়

উৎপাদনে ফিরলো মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র

কয়লা সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়া কক্সবাজারের মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রে এক মাস পর আবারও উৎপাদন শুরু হলো। অনিশ্চয়তা কাটিয়ে ১ ডিসেম্বর থেকে পুরোদমে উৎপাদনে যেতে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছিল আগেই। দুটি ইউনিটের মধ্যে ২য় ইউনিটে রাত ১২টার পর থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করেছে কোল পাওয়ার কর্তৃপক্ষ। 

সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ৫৩২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও জাতীয় গ্রীডে যোগ হচ্ছে ৫০০ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতে ১ ডিসেম্বর ৬৬ হাজার মে. টন কয়লা নিয়ে পানামার পতাকাবাহী নোভা কেলি নামক আরও একটি জাহাজ পৌছেছে বিদ্যুৎ কেন্দ্র জেটিতে এমনটি জানিয়েছেন বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কর্মকর্তারা। ডিসেম্বর মাসে ৫টি জাহাজে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ মে. টন কয়লা আসার কথা রয়েছে বলেও জানান তারা। 

এর আগে গত বুধবার সকালে ইন্দোনেশিয়া থেকে পানামার পতাকাবাহী একটি জাহাজে করে আনা হয়েছে ৭০ হাজার টন কয়লা। জাপানের সুমিতমো করপোরেশনের সাথে চুক্তি শেষ হওয়ার পর মেঘনা গ্রুপের আমদানি করা এটিই প্রথম কয়লার চালান। ওই কয়লা দিয়েই উৎপাদন শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির তত্ববাবধায়ক প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন মজুমদার। যা যুক্ত হবে জাতীয় গ্রীডে।

এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুইটি ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট। প্রকল্পের একটি ইউনিট ২০২৩ সালের জুলাই ও অপর ইউনিট ডিসেম্বরে চালু হয়। 

চুক্তি অনুযায়ী, সুমিতমো করপোরেশন কয়লার সর্বশেষ সরবরাহ দিয়েছিল গত আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে। উৎপাদন শুরুর পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে আনা হয়েছিল মোট ২২ লাখ ৫ হাজার টন কয়লা। সেই মজুদ পুরোপুরি শেষ হয়ে যাওয়ায় গত ৩১ অক্টোবর থেকে বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির দুই ইউনিটেরই উৎপাদন কার্যক্রম।

এবিষয়ে কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির নিরাপত্তা সহকারী মিজানুল হাসান বলেন, গত রাতে ২য় ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরুদমে শুরু হয়েছে। জাতীয় গ্রীডে ৫শ’ মেগাওয়াট যোগ হচ্ছে। কয়লা সরবরাহ নিয়মিত থাকলে ১ম ইউনিটেও বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সচল রাখা যাবে।

কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির চীফ প্রকৌশলী সাইফুল আলম জানান, কয়লা সংকটের কারনে এক মাস বন্ধ ছিল। এখন আবার শুরু হলো উৎপাদন। আশা করি এটি সচল থাকবে।

বায়ান্ন/প্রতিনিধি/একে



সম্পর্কিত খবর