খবর প্রতিদিন

বুধবার সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন শেখ হাসিনা

পুণ্যভূমি সিলেট। আধ্যাত্মিক রাজধানী সিলেট। বুধবার ২০ ডিসেম্বর এই সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওলিকুল শিরোমনি আউলিয়াদের স¤্রাট হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.) এর মাজার জেয়ারত করে শুরু করবেন ওই প্রচারণা। প্রতিবারই একইভাবে সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন তিনি। মাজার জেয়ারত শেষে সিলেট সরকারি আলীয়া মাদরাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। জননেত্রী শেখ হাসিনার এই সফরকে কেন্দ্র করে গত সপ্তাহজুরে সিলেটের নেতাকর্মীরা ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। সফর ও জনসভাকে সফল করে তুলতে নেতাকর্মীরা সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নিয়েছেন। সিলেট শহরকে পরিচ্ছন্ন করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পুরো নগরী চষে বেড়িয়েছেন। নিñিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করেছেন। নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হয়েছে পুরো নগরী।

 

সরকারি আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে শেখ হাসিনার সমাবেশে লাখ লাখ মানুষের সমাগম ঘটাতে চান দলের নেতাকর্মীরা। নির্দেশনা রয়েছে সিলেট বিভাগের প্রত্যেক আসনের নৌকার প্রার্থীকে কমপক্ষে ১০ হাজার লোক নিয়ে সমাবেশে আসতে হবে।

 

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানিয়েছেন সমাবেশ সফলে গত ১৩ ডিসেম্বর প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবীর নানক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফসহ প্রায় একডজন কেন্দ্রীয় নেতার উপস্থিতিতে সিলেটের একটি কনভেনশন হলে বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় সিলেট বিভাগের চার জেলার আওয়ামী লীগ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ২০ ডিসেম্বর আলীয় মাদ্রাসা মাঠের জনসমাবেশে স্মরণকালের বৃহৎ করার নির্দেশনা দেন কেন্দ্রীয় নেতারা। সভায় বিভাগের ১৯টি আসনের সকল নৌকার প্রার্থীকে অন্তত ১০ হাজার করে লোক নিয়ে আসার নির্দেশ দেওয়াা হয়।

একাধিক নেতা জানান, ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে ভোটবর্জনকারী বিএনপি ও জামায়াত চাইবে ভোটার উপস্থিতি কমাতে। তাদের এই ষড়যন্ত্র নস্যাত করে ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে শেখ হাসিনার প্রথম নির্বাচনী জনসভা জনসমূদ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যাতে সিলেটের জনসমূদ্র দেখে দেশের সকল জেলায় দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়। তারা যাতে সপরিবারে উৎসবমূখর পরিবেশে ভোট দিতে চায়। ওই জনসভায় সিলেট বিভাগের নৌকা এবং কোনো আসন জোটের শরীক কোন দলকে ছেড়ে দেওয়া হলে ওই আসনের প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তাদের পক্ষে সিলেটবাসীর কাছে ভোটও চাইবেন তিনি।

 

 

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী সংবাদ মাধ্যমকে জানান, আলীয়া মাঠে প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় স্মরণকালে বৃহৎ জনসমাবেশ করার সকল প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বিভাগের প্রতিটি জেলা উপজেলা থেকে দলে দলে নেতাকর্মীরা সমাবেশে এসে যোগ দেবেন। বিএনপি-জামায়াত আগুন সন্ত্রাস করে মানুষের মধ্যে ভীতিসঞ্চারের চেষ্টা করছে। কিন্তু শেখ হাসিনার সমাবেশে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি দেখে তাদের মাথা আরেকবার খারাপ হবে। সিলেট থেকে সারাদেশে নির্বাচনী উৎসবের জোয়ার ছড়িয়ে দেয়া হবে।

 

সিলেটবাসীর অভিভাবক হিসেবে বারবারই বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা নিজকে প্রমাণ করেছেন। সিলেটবাসীর উন্নয়নে তিনি অনেক দিয়েছেন। নগরবাসীর উন্নয়নে হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। ওই টাকায় উন্নয়ন হয়েছে। তবে তা অপরিকল্পিত। সর্বশেষ বর্তমান সিলেট সিটি করপোরেশনের পরিষদ দায়িত্ব নেয়ার দিন শেখ হাসিনা আরো ১৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। ওই টাকার সঠিক ব্যবহারের প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা কামনা করছেন নগরবাসী। বঙ্গমাতা মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়-সিলেটবাসীর জন্যে বিশাল এক উপহার জননেত্রী শেখ হাসিনার। এই বিশ^বিদ্যালয় নিয়ে অনেক অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে। সঠিক নেতৃত্বের অভাবে আজো বিশ^বিদ্যালয়টি তার কাঙ্খিত পথে হাটতে পারছে না। সিলেটের মানুষ আশা করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশেষ নজর দেবেন বিশ^বিদ্যালয়টির দিকে। এছাড়া সিলেটের নানান ধরণের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাদ্দ দিয়েছেন হাজার হাজার কোটি। ইতোমধ্যে অনেক স্থাপনা গড়ে উঠেছে। ওইসব স্থাপনায় কার্যক্রম চালু হয়েছে। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে অপরিকল্পিত কার্যক্রমের কারণে সঠিক উন্নয়ন হয়নি বলে জানিয়েছেন অনেকে। বিশেষ করে বঙ্গমাতা মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় নিয়ে সিলেটবাসীর ক্ষোভের শেষ নেই।

 

 

কোম্পানীগঞ্জে প্রায় ১৬৩ একর জায়গায় তৈরি হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাইটেক পার্ক। এই হাইটেক পার্ককে কেন্দ্র করে অনেক স্বপ্ন দেখেছিলেন সিলেটবাসী। কিন্তু এই হাইটেক পার্কটি বলতে গেলে অবহেলার শিকার হচ্ছে। ওই অবহলো থেকে হাইটেক পার্ককে মুক্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সিলেটের সচেতন মহল। 

 



সম্পর্কিত খবর