জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস আশা প্রকাশ করেছেন যে, বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচন বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। তিনি বলেন, একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য এ নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শনিবার (১৫ মার্চ) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে জাতিসংঘের উদ্যোগে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ বৈঠকে বাংলাদেশের সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা হয়।
বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, নায়েবে আমির ডা. আব্দুল্লাহ মো. তাহের, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি ও সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, বৈঠকে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ, সদস্য ড. ইফতেখারুজ্জামান ও বদিউল আলম মজুমদারও অংশ নেন।
বৈঠক শেষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, তারা জাতিসংঘ মহাসচিবকে রাজনৈতিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে অবহিত করেছেন। তিনি বলেন, “সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা আমরাই আগে বলেছি। নির্বাচনকেন্দ্রিক সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করা প্রয়োজন।” তবে নির্বাচন নিয়ে কোনো টাইমফ্রেম জাতিসংঘকে দেয়নি বিএনপি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, জাতিসংঘ মনে করে, “বাংলাদেশের সংস্কার ও নির্বাচন অভ্যন্তরীণ ইস্যু। তবে আসন্ন নির্বাচন আন্তর্জাতিকভাবে দৃষ্টান্তমূলক হবে বলে জাতিসংঘ মহাসচিব আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।”
জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. আব্দুল্লাহ মো. তাহের জানান, তারা সুষ্ঠু নির্বাচন, টেকসই গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্যের বিষয়টি জাতিসংঘের সামনে উপস্থাপন করেছেন। “জাতিসংঘ মহাসচিব আমাদের অধিকাংশ বক্তব্য সমর্থন করেছেন,” বলেন তিনি।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি জানান, “জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিতে জাতিসংঘের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।” এ ছাড়া, সংস্কার ও নির্বাচনের বিষয়ে ঐকমত্য নিয়ে তাদের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “সংস্কারের মৌলিক ভিত্তি বর্তমান সরকারের আমলেই তৈরি করতে হবে। সংস্কার ছাড়া নির্বাচন ফলপ্রসূ হবে না।”
এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ জানান, “গণহত্যা নিয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে দেওয়া সুপারিশ বাস্তবায়নে সহায়তা প্রয়োজন।”
প্রধান উপদেষ্টার আমন্ত্রণে চার দিনের সফরে গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় আসেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। তার এ সফর বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কার ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও সংলাপের সুযোগ তৈরি করেছে।
বায়ান্ন/আরএস