রাজধানীর বাজারগুলোতে মাছ-মাংসের দাম বাড়তি। গত দুই সপ্তাহে বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়েছে। গরুর মাংসের দাম কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা। খাসির মাংসের কেজি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩৫০ টাকা। এতে মাছ-মাংস কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা।
তবে বাজারে ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম প্রতি হালিতে ৫ টাকা এবং হাঁসের ডিমের দাম ১০ টাকা কমেছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর নয়াবাজার, রায়সাহেব বাজার ও ধূপখোলা মাঠ বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, মাছের বাজারে তেলাপিয়া প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, যা আগে ছিল ২০০ থেকে ২২০ টাকা। পাঙাশ ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, যা আগে ছিল ২০০ থেকে ২২০ টাকা। রুই-কাতলা ২৮০ থেকে ৪৫০ টাকা, যা আগে ছিল ২৫০ থেকে ৩৮০ টাকা। চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যাা আগে ছিল ৮০০ থেকে ৯৫০ টাকা।
এছাড়া পাবদা ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা, যা আগে ৩২০ থেকে ৪৮০ টাকা৷ ট্যাংরা ৭০০ টাকা, যা আগে ছিল ৬৫০ টাকা। আইড় ৮০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, যা আগে ছিল ৭০০ থেকে ১০০০ টাকা৷ চিতল ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা, যা আগে ছিল ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা এবং বেলে মাছ ৭০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি, যা আগে ছিল ৬০০ থেকে ১০০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের আকার, প্রজাতি ও জীবিত থাকার ওপর দাম নির্ভর করছে। বাজারভেদেও কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পার্থক্য রয়েছে।
মাছের পাশাপাশি মাংসের দামও চড়া। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা ১৫ দিন আগে ছিল ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা। সোনালি মুরগির কেজি ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা, যা গত মাসে ছিল ৩০০ থেকে ৩১০ টাকা। দেশি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায়। আগে এ দাম ছিল ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকা।
প্রতি কেজি গরুর মাংস ৮০০ টাকা এবং হাড় ছাড়া মাংস ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংসের কেজি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩৫০ টাকা। এদিকে সলিড ব্রয়লারের মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকায়।
নয়াবাজারে বাজার করতে আসা মো. মনির হোসেন বলেন, বাজারে প্রায় সব পণ্যের দাম চড়া। গত কয়েক সপ্তাহে মাছ-মাংসের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। জ্বালানির দাম বাড়ার অজুহাতে ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। বাজারে কারসাজি বন্ধে সরকারের গুরুত্ব দিয়ে নজরদারি করা উচিত।
নয়াবাজারের মাছ বিক্রেতা মো. সুমন বলেন, মাছের আড়তেই দাম বেড়েছে। বিভিন্ন ধরনের মাছ কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। বেশি দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করেও আগের মতো লাভ হচ্ছে না। মাছ বিক্রি করে কোনো রকমে সংসার চালাতে হচ্ছে।
রায়সাহেব বাজারের গরুর মাংস বিক্রেতা মো. রমজান বলেন, অনেক দিন ধরেই গরুর মাংসের দাম বেশি। তার দাবি, হাটে গরুর সরবরাহ কম থাকায় দাম বাড়ছে। এ ছাড়া গরুর ওজনের তুলনায় মাংস পাওয়া যাচ্ছে কম। গরু মোটাতাজা করতে খাওয়ানো খাবারের কারণেও চর্বির পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। ফলে বেশি দামে মাংস বিক্রি করেও লাভ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ধূপখোলা মাঠ বাজারের মুরগি বিক্রেতা মো. রুহুল আমিন বলেন, গত দুই সপ্তাহে মুরগির দাম বেড়েছে। এতে বিক্রি কমে গেছে। মুরগি কিনে দোকানে রাখার পরও পরিচর্যার খরচ আছে। বিক্রি কম থাকলে লোকসান গুনতে হবে।
তবে ডিমের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। রায়সাহেব বাজারের ডিম বিক্রেতা মো. সোহরাব হোসেন বলেন, বর্তমানে ফার্মের মুরগির ডিম প্রতি হালি ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৫০ টাকা। হাঁসের ডিমের হালি ৭০ টাকা থেকে কমে ৬০ টাকা হয়েছে। দেশি মুরগির ডিমের হালি ৮৫ থেকে ৯০ টাকা থেকে কমে ৭০ টাকায় নেমেছে।
বাজার তদারকি জোরদারের দাবি
বাজারে মাছ-মাংসসহ নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন ভোক্তা অধিকারকর্মীরা।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে কারসাজি করতে না পারেন, সে জন্য তদারকি সংস্থাগুলোকে আরও কঠোর হতে হবে। ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে বাজারে কার্যকর নজরদারি জরুরি। সরকারের কাছে ভোক্তাদের প্রত্যাশা অনেক। তাই বাজারে অসাধু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মণ্ডল বলেন, বাজারে তদারকি জোরদার করায় ব্রয়লার মুরগির দাম কমতে শুরু করেছে। একপর্যায়ে প্রতি কেজি মুরগি ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। অভিযান চালিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনার পর দাম কমে ১৮০ টাকায় নেমেছে। গরু ও খাসির মাংসের বাজারেও তদারকি করা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, এসব পণ্যের দাম আরও কমবে।