জাতীয়

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদে সেই পুরনো স্টাইলে খাদ্যশষ্য লুটপাট

দীর্ঘ ১৬ বছরে বান্দরবান জেলা পরিষদের খাদ্যশস্য  নিয়ে স্বৈরাচার আওয়ামীলীগ  মনোনীত পরিষদ যা করেছে । নবগঠিত বর্তমান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং কর্মকর্তারা একই কায়দায় লুটপাট শুরু করেছে। গত ৭ নভেম্বর রাতে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব তাসলীমা বেগম এক স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে পূর্বের পরিষদ ভেঙ্গে দিয়ে অধ্যাপক থানজামা লুসাইকে চেয়ারম্যান করে নতুন পরিষদ গঠন করা হয়। এর পরে গতমাসে পার্বত্য মন্ত্রনালয় থেকে আপদকালীন বরাদ্দ হিসেবে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদকে ১ হাজার মেট্টিক টন খাদ্য শষ্য ( ৫০০ টন গম ও ৫০০ টন চাউল) বরাদ্ধ দেওয়া হয়। গতকাল সরেজমিনে বান্দরবান জেলা পরিষদ গেলে কয়েকজন প্রকল্প দাতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন নিজেদের এলাকায় প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য চেয়ারম্যান বরাবরে আবেদন করলে খাদ্যশষ্য বরাদ্ধ দেওয়া হয়। কিন্তু সেই পুরানো স্টাইলে প্রতিটনে ১৫ হাজার টাকা ধরিয়ে দিয়ে প্রকল্প চেয়ারম্যাসসহ সংশ্লিষ্টদের সাক্ষর নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান বাজারে খাদ্য শষ্যের যে দাম তার একাংশ টাকাও প্রকল্পদাতাদের দেওয়া হচ্ছে না। এতে প্রকল্পের ভবিষত নিয়ে তারা সন্দিহান।  এদিকে অভিযোগ উঠেছে যে সমস্ত প্রকল্পে খাদ্যশষ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তার অধিকাংশই ভূয়া। 

এই বিষয়ে বান্দরবান জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাকে ফোন করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন। পরে হোয়াটসএ্যপে এসএমএস করা হলেও উত্তর দেননি। 

এই বিষয়ে পার্বত্য উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমার দৃষ্টি আর্কষণ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। 

 

 

উল্লেখ্য  আওয়ামী সরকারের দীর্ঘ ১৬ বছরে বান্দরবান জেলা পরিষদের প্রায় ৭২০ কোটি টাকার খাদ্যশস্য প্রকল্পের পুরোটাই লুটপাট ও আত্মসাৎ করা হয়েছে। অস্তিত্বহীন ও ভুয়া দেড় শতাধিক প্রকল্পের নামে এসব খাদ্যশস্য কাগজপত্রে বরাদ্দ দেখানো হয়। কিন্তু সরেজমিন গিয়ে কোনো প্রকল্পের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই লুটপাটের সঙ্গে জড়িত আছেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা, নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউর রহমান, উপসহকারী প্রকৌশলী থোয়াই চ মং, হিসাবরক্ষক উসাজাই মারমা। তবে অফিসের কেউ তাদের ভয়ে গণমাধ্যমে মুখ খুলতে চান না। সাধারণত দাতব্য প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা, মন্দির, গির্জা, রাস্তাঘাট সংস্কার ও ছোটখাটো ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণের জন্য এই খাদ্যশস্য প্রকল্পগুলো সরকার দিয়ে থাকে।

২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত গত ১৬ বছরে বান্দরবান জেলা পরিষদে খাদ্যশস্য প্রকল্পের চাল বরাদ্দ আসে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টন এবং গমের বরাদ্দ আসে প্রায় ৮০ হাজার টন। গড়ে চালের দাম যদি প্রতি টনে ৪০ হাজার টাকা করে ধরা হয় তাহলে ১ লাখ ২০ হাজার টনের দাম আসে ৪৮০ কোটি টাকা। গমের দাম যদি টনপ্রতি গড়ে ৩০ হাজার টাকা ধরা হয় তাহলে ৮০ হাজার টনের দাম আসে ২৪০ কোটি টাকা। চাল আর গম মিলে খাদ্যশস্য প্রকল্পে বান্দরবান জেলা পরিষদে ১৬ বছরে বরাদ্দ এসেছে প্রায় ৭২০ কোটি টাকার। কিন্তু কাগজপত্রে সব ঠিক রেখে ভূতুড়ে প্রকল্প তৈরি করে এই বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য আত্মসাৎ করা হয়েছে।

 



সম্পর্কিত খবর