বান্দরবানের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফা সুলতানা খান হীরামণি পাহাড় কাটার দায়ে জরিমানা করেছেন। বান্দরবানের বাকিছড়ায় পাহাড় কাটার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত ১৫ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করেছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ মে) বান্দরবান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফা সুলতানা খান হীরামণি'র নির্দেশে এই জরিমানা করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (২৮ মে) বান্দরবান সদর উপজেলার বাকিছড়া, লেমুঝিরি ও থোয়াইংগ্যা পাড়ায় পাহাড় কাটার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর প্রশাসনের নজরে আসে। পরে আজ থোয়াইংগ্যা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় পাহাড় কাটার অপরাধে যুবদল নেতা মো. নাজিম উদ্দিনকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করে সতর্ক করা হয়। অভিযোগ রয়েছে যে, যুবদল নেতা মো: নাজিম উদ্দিনের নেতৃত্বে বান্দরবানে বড় বড় পাহাড় কাটা হচ্ছে এবং তিনি পাহাড় কাটা চক্রের নেতৃত্ব দেন। পাহাড় কাটার সময় সাংবাদিকরা উপস্থিত হলে তিনি যুবদলের ক্ষমতা দেখিয়ে সাংবাদিকদের প্রকাশ্যে হুমকি দেন।
এছাড়াও, থোয়াইংগ্যা পাড়া এলাকার আরও দুটি পাহাড় এবং বাকিছড়া এলাকার খায়রুলের পাহাড়সহ মোট তিনটি পাহাড় কাটার অপরাধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রসঙ্গত, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন-২০১০ অনুযায়ী, পাহাড় কাটা একটি আমলযোগ্য অপরাধ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান অথবা ব্যক্তি পাহাড় কাটতে বা নিশ্চিহ্ন করতে পারবে না। যদি কেউ এই আইন অমান্য করে, তবে তাকে অথবা ওই প্রতিষ্ঠানকে দুই বছর কারাদণ্ড অথবা ২ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটলে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ১০ বছর কারাদণ্ড অথবা ১০ লাখ টাকা জরিমানা গুনতে হবে।