বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ পদত্যাগ করেছেন। টানা ২১ মাস দায়িত্ব পালনের পর তিনি ব্যক্তিগত কাজে মনোনিবেশের লক্ষ্যে এই পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের পুঁজিবাজার যখন এক কঠিন ও অস্থির সময় পার করছিল, তখন তারা নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে আইনগত কাঠামো ও বাজার শৃঙ্খলা সংস্কারের দীর্ঘ প্রক্রিয়া শুরু করেন।
তিনি জানান, এই স্বল্প সময়ে ৫টি বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে মার্জিন, আইপিও, মিউচুয়াল ফান্ড, ডেট সিকিউরিটিজ ও হুইসেলব্লোয়ার সংক্রান্ত বিধিমালা। পাশাপাশি করপোরেট গভর্ন্যান্স, অডিট ও করপোরেট রিস্ট্রাকচারিং বিষয়ে তিনটি খসড়া নির্দেশিকা জনমত যাচাইয়ের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে।
চেয়ারম্যান আরও জানান, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন এবং ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড আইন—এই দুটি নতুন আইন প্রণয়নের খসড়াও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে (এফআইডি) পাঠানো হয়েছে।
তার বক্তব্যে বলা হয়, বাজার শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কমপ্লায়েন্স ও এনফোর্সমেন্ট খাতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সব ধরনের অনানুষ্ঠানিক হস্তক্ষেপ কমিয়ে এনে বাজারে আইন ও নিয়মভিত্তিক কার্যক্রম নিশ্চিত করা হয়েছে এবং অংশীজনদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা ও শিক্ষা কার্যক্রম ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও প্রতিযোগিতা এবং স্থানীয় পর্যায়ের প্রশাসনিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।
চিঠিতে তিনি বলেন, এসব অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে একটি পুনরুজ্জীবিত ও উদ্যমী বিএসইসি টিমের মাধ্যমে, যারা ভবিষ্যতে আরও কাজ করতে প্রস্তুত।
শেষে তিনি পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব রাখার আশা ব্যক্ত করে সহকর্মী, অংশীজন ও সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
উল্লেখ্য, বৃহষ্পতিবার (৪ জুন) রাশেদ মাকসুদ অফিসে আসেননি। এই দিন সকাল ১১টা ঈদ পরবর্তী সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠান থাকলেও তা অনুষ্ঠানের কিছুক্ষণ আগে স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
এর আগে গত মঙ্গলবার ইকোনমিক রিপোর্টার ফোরামের (ইআরএফ) এক সেমিনারে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিএসইসিতে দ্রুত পরিবর্তন আসবে এমন কথা বলেছিলেন।