বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের ফলপ্রসূ আলোচনার পর অবশেষে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য স্বাভাবিক হয়েছে। এর ফলে উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি কামাল উদ্দিন শিমুল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রবিবার সকালে বেনাপোল কাস্টমস কমিশনারের সঙ্গে অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের মতবিনিময় সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে কাঁচামাল ব্যতীত অন্যান্য পণ্য সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করবে। কাঁচামাল সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রবেশ করবে। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সময় কিছুটা বাড়ানো হবে।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার থেকে কাগজপত্রবিহীন ও চোরাই পণ্য অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কোনো পূর্ব ঘোষণা বা প্রস্তুতি ছাড়াই বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সন্ধ্যা ৬টার পর সব ধরনের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে দুই দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দরে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয় এবং সীমান্তে পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ জট তৈরি হয়।
এদিকে, পেট্রাপোল-বেনাপোল গেটওয়ে দিয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে মারাত্মক পতন হওয়ায় ভারতের পেট্রাপোল ক্লিয়ারিং এজেন্টস স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন রবিবার (২৬ অক্টোবর) সকালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানকে ইমেইলে চিঠি দেয়।
চিঠিতে তারা উল্লেখ করে, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের প্রবাহ মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং এটি প্রতিষ্ঠিত সীমান্ত বাণিজ্যিক কার্যক্রমের স্থিতিশীল দক্ষতার ওপর বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করছে। অ্যাসোসিয়েশন ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে পোর্টের সক্ষমতা পুনরুদ্ধারে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানায়। তারা হুঁশিয়ারি দেয় যে, আগামী মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) এর মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি না ঘটলে তাদের সদস্যরা সাময়িকভাবে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হবে।
ভারতীয় সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, পূর্বে প্রতিদিন প্রায় ৪০০টি ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করলেও কাস্টমসের নিষেধাজ্ঞার কারণে তা কমে প্রায় ২৫০টিতে নেমে এসেছিল। ফলে প্রায় ১,৫০০ রপ্তানি ট্রাক পেট্রাপোল আইসিপিতে আটকে ছিল।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন এই সমস্যার সমাধানে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বন্দর পরিচালনা কর্তৃপক্ষ হিসেবে তারা সব ধরনের সহযোগিতা করবেন।
অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাস্টমসের এক কর্মকর্তা জানান, মূলত কাঁচামালের ক্ষেত্রে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আমদানির কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু একটি মহল সব পণ্যের ক্ষেত্রে এই আইন ভুলভাবে প্রচার করেছে, যার ফলে এই অচলাবস্থা তৈরি হয়। তিনি নিশ্চিত করেন, দ্রুত সমাধানের কারণে বন্দর ব্যবহারকারীদের আর কোনো সমস্যা থাকবে না।
উল্লেখ্য, এই বন্দর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২০০-২৫০ কোটি টাকার আমদানি-রপ্তানি হয়ে থাকে এবং এই অচলাবস্থায় ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন।