অর্থনীতি ও বাণিজ্য

ভরিতে সোনার গহনার দাম বাড়লো ১৬৩৩ টাকা

টানা তিন দফা দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ১ হাজার ১৩৩ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৪ হাজার ২৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য। স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে। এর আগে, সবশেষ গত ১১ আগস্ট সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। সেদিন ভরিতে ১ হাজার ১০৮ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

 

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ৫৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯২ হাজার ৮৬৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫২২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই। এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১০২ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৫১ দফা বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ৫০ দফা ও ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

 

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের (কেন্দ্রীয় ব্যাংক) নীতিগত সিদ্ধান্ত কোন পথে হাঁটবে, তা বুঝতে দেশটির মূল্যস্ফীতির গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এই অপেক্ষার প্রভাবে মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম সামান্য কমেছে। তবে এর আগে দাম বেড়ে আড়াই মাসের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছেছিল। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাত ১১টা ৫০ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ০.৩ শতাংশ কমে ৪,৩৭৬.৩১ ডলারে নেমে আসে। দিনের শুরুতে দাম বেড়ে ৪,৪৩৪.৮৪ ডলারে উঠেছিল, যা গত ৫ জুনের পর সর্বোচ্চ। তখন এটি ১০০ দিনের মুভিং অ্যাভারেজ (যা বর্তমানে ৪,৩৮৭.৯২ ডলার) অতিক্রম করার চেষ্টা করেছিল। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার মার্কেটে দাম প্রায় ০.৫ শতাংশ বেড়ে ৪,৪৪১.১০ ডলারে স্থির হয়েছে।

 

জেনার মেটালস-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ও জ্যেষ্ঠ মেটালস স্ট্র্যাটেজিস্ট পিটার গ্র্যান্ট বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে কিনা, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে বাজার চলতি সপ্তাহের মূল্যস্ফীতির তথ্যের দিকে তাকিয়ে আছে।  বার্ষিক মূল্যস্ফীতি (সিপিআই) সহনীয় পর্যায়ে থাকলে তা স্বর্ণের বাজারের জন্য ইতিবাচক হবে বলেও মনে করেন তিনি। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) এবং বৃহস্পতিবার উৎপাদক মূল্যসূচকের (পিপিআই) তথ্য প্রকাশের কথা রয়েছে। এর ওপর ভিত্তি করেই মুদ্রানীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হতে পারে। 

এর আগে, গত শুক্রবার জুলাই মাসের দুর্বল কর্মসংস্থানের তথ্য প্রকাশের পর, আগামী মাসে ফেড সুদহার বাড়াবে—এমন ধারণা থেকে সরে আসেন বিনিয়োগকারীরা। এর প্রভাবে সেদিন স্বর্ণের দাম একলাফে ২.৪ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল।

 

পিটার গ্র্যান্ট আরও বলেন, গত সপ্তাহের হতাশাজনক কর্মসংস্থানের তথ্যের পর সেপ্টেম্বরে সুদহার বৃদ্ধির প্রত্যাশা কমে যাওয়ায় স্বর্ণের বাজারে এখনো বেশ ভালো দর হাঁকা হচ্ছে। তবে সিএমই ফেডওয়াচ টুল-এর তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা এখনো সেপ্টেম্বরে সুদহার বাড়ার ৫০ শতাংশ এবং ডিসেম্বরে ৭৯ শতাংশ সম্ভাবনা দেখছেন। ক্লিভল্যান্ড ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বেথ হ্যাম্যাক সোমবার জানান, ভবিষ্যতে হঠাৎ করে সুদহার অনেক বেশি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা এড়াতে এখন থেকেই ধীরে ধীরে তা বাড়ানোর উপযুক্ত সময় বলে তিনি মনে করেন। উল্লেখ্য, সাধারণত উচ্চ সুদহারের পরিবেশে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন বিনিয়োগের আকর্ষণ কমে যায়।

 

ভূরাজনৈতিক ফ্রন্টে, শান্তি চুক্তির জন্য দেওয়া তেহরানের শর্তের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজস্ব দাবি তুলে ধরেছেন। তিনি যুদ্ধ, হামলা ও বিক্ষোভে নিহতদের জন্য ইরানকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থান করছে।

 

 



সম্পর্কিত খবর