যশোরের মনিরামপুরে সাংবাদিক ও বরফকল ব্যবসায়ী রানা প্রতাপ বৈরাগীকে (৪০) নৃশংসভাবে হত্যার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও নেপথ্যের কারণ বা 'মোটিভ' উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। প্রকাশ্যে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মঙ্গলবার পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার হয়নি। কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড—সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য দিতে পারছে না পরিবার কিংবা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় মনিরামপুর উপজেলার কপালিয়া বাজারে রানাকে তাঁর বরফকল থেকে ডেকে নিয়ে বাজারের পশ্চিম পাশে একটি গলিতে মাথায় সাতটি গুলি করা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত করতে খুনিরা তাঁর গলা কেটে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। নিহত রানা প্রতাপ কেশবপুর উপজেলার আড়ুয়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক তুষার কান্তি বৈরাগীর বড় ছেলে। তিনি নড়াইল থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক বিডি খবর’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন। পাশাপাশি মাছের আড়ত ও বরফকলের ব্যবসা পরিচালনা করতেন।
নিহতের বাবা তুষার কান্তি বৈরাগী বলেন, "আমার ছেলের কোনো শত্রু ছিল না। কেন তাকে এভাবে প্রাণ দিতে হলো, তার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছি না। আমি শুধু আমার সন্তান হত্যার বিচার চাই।"
পুলিশ জানায়, রানা প্রতাপের বিরুদ্ধে অভয়নগর থানায় একটি হত্যা মামলা এবং কেশবপুর থানায় বিস্ফোরক আইনের একটি মামলা রয়েছে। এই পুরনো শত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রজিউল্লাহ খান বলেন, "হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত চলছে এবং মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।" সহকারী পুলিশ সুপার (মনিরামপুর সার্কেল) ইমদাদুল হক জানান, গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং দ্রুতই রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী।